ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
শিক্ষা নগরী ” রাজশাহী”। সবুজ নগরী” রাজশাহী”। শিল্প এলাকা সমৃদ্ধ নগরী “রাজশাহী “। এই মহানগরীর শিল্প এলাকা ছাড়া সবখানেই “শব্দদূষণ “হচ্ছে। সম্প্রতি বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে “শব্দের” মানমাত্রা পরীক্ষা করে এই কথা জানানো হয়।
বারিন্দ্র এনভায়রনমেণ্টের সহযোগিতায় এই মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় “শব্দের” মাত্রা নির্ণয় করা হয়। বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন খান আমাদের প্রতিবেদককে জানান, সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন এলাকাকে ৫টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। এইগুলি হলঃ(১) নীরব এলাকা (২) আবাসিক এলাকা (৩) মিশ্র এলাকা (৪) বাণিজ্যিক এলাকা (৫) শিল্প এলাকা। এই মহানগরীর শিল্প এলাকা ছাড়া অন্য ৪ জায়গায় শব্দদূষণ বয়ে বেড়াচ্ছে।
তিনি আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, নীরব এলাকায় দিন – রাত্রিতে সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রা থাকতে হবে ৪০- ৫০ ডেসিবেল। কিন্তু রাজশাহী মহানগরীর ঘোষিত নীরব এলাকায় দিন-রাত্রিতে শব্দের ঘনমাত্রা পাওয়া যাচ্ছে ৮৪ ডেসিবেল। এই মহানগরীর বাণিজ্যিক এলাকায় দিন-রাত্রিতে সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রা থাকতে হবে ৬০-৭০ ডেসিবেল। কিন্তুু এই মহানগরীর বাণিজ্যিক এলাকায় দিন-রাত্রিতে শব্দের ঘনমাত্রা পাওয়া যায় ৮৮-৯০ ডেসিবেল। এইভাবে সব ক্যাটাগরীতেই শব্দের মাত্রা বেশী পাওয়া গেছে। রাজশাহী শহরের শুধু শিল্প এলাকায় শব্দের স্বাভাবিক মাত্রা পাওয়া যায়। এই শিল্প এলাকায় দিন-রাত্রিতে সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রা থাকতে হবে ৭০-৭৫ ডেসিবেল।
এই মহানগরীর শিল্প এলাকায় শব্দের ঘনমাত্রা পাওয়া গেছে ৭৪ ডেসিবেল। প্রাপ্ত মানগুলি থেকে দেখা যায় যে, শিল্প এলাকা ছাড়া অন্যসব জায়গায় শব্দের নির্ধারিত মানমাত্রা অতিক্রম করেছে। যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। “শব্দের ” মানমাত্রার বিষয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়( রুয়েট) এর অধ্যাপক মোঃ ইকবাল মতিন বলেন, পরিবেশ বান্ধব এই রাজশাহী শহরে “শব্দদূষণ” নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যত্রতত্র হর্ন না বাজানোর জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
এই মহানগরী ও আশপাশের নির্মাণ কাজে “শব্দ” নিয়ন্ত্রণে রাখাও অত্যন্ত জরুরী। কারণ, এই “শব্দদূষণ” এ আমাদের দেশের শিশুরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই শব্দদূষণের প্রভাব শুধু মানব জাতির উপর নয়,প্রতিটি পশু- পাখির উপরেও পড়ে। এই বিষয়ে এখনই আমাদের সবাইকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
