আলো ডেস্ক: বিশিষ্ট সাংবাদিক, গীতিকার, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক বার্তায় এ শোক জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আশরাফ সিদ্দিকী বিটু এ তথ্য জানিয়েছেন।
এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ প্রগতিশীল, সৃজনশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন অগ্রপথিককে হারালো। তার একুশের অমর সেই গান বাঙালি জাতিকে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তির আন্দোলনে অসীম সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছিল। তিনি একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট।
লেখনীর মাধ্যমে তিনি আজীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে কাজ করে গেছেন। তিনি বলেন, তার মৃত্যু দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মরহুম আবদুল গাফফার চৌধুরী তার কালজয়ী গান ও লেখনীর মাধ্যমে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে থাকবেন। অপর এক শোকবার্তায় আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গাফফার চৌধুরী ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেরুয়ারি’ গানটি লিখে বাঙালির হৃদয় জয় করেছেন।
তার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। অনেক পরামর্শ পেয়েছি। একজন বিজ্ঞ ও পুরোধা ব্যক্তিত্বকে হারালাম। গাফফার চৌধুরী তার লেখা ও গবেষণার মাধ্যমে আমাদের বাঙালির ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সমৃদ্ধ করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাফফার চৌধুরী তার কাজ ও লেখায় এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখেছেন। তিনি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মনন ধারণ করেছেন। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়কে সমর্থন করে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন।
গাফফার চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত সাপ্তাহিক জয় বাংলা পত্রিকায় বিভিন্ন লেখালেখির মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন বলে জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে প্রবাসে থেকেও বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক। শেখ হাসিনা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
স্পিকারের শোক: আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। স্পিকার শিরীন শারমিন বিশিষ্ট এ সাংবাদিকের মৃত্যুতে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। গাফফার চৌধুরীর শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনাও জ্ঞাপন করেন স্পিকার।
মন্ত্রীদের শোক: আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুর খবর শোনার পরপরই এ শোক বার্তা দেন তিনি। অন্যদিকে আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, আবদুল গাফফার চৌধুরী ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, কলামিস্ট, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। তিনি মহান ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’-এর রচয়িতা।
মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও গণতন্ত্রের স্বপক্ষে তাঁর সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনী আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আবদুল গাফফার চৌধুরী বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক, শেরেবাংলা পদক, বঙ্গবন্ধু পদকসহ অনেক পদকে ভ‚ষিত হয়েছেন। মন্ত্রী প্রয়াত আবদুল গাফফার চৌধুরীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এছাড়া তার মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খসরু, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
শোকাবার্তায় তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
