আলো ডেস্ক: সায়ংকালে চিন্ময়ী আনন্দরূপিণী দেবীর বোধন ও ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। করোনার অতিমারিসহ সব ধরনের অশুভ ও অমঙ্গল থেকে মুক্তি লাভই এবার দেবীর কাছে ভক্তদের প্রার্থনা। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়। সকাল থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা অর্চনায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আসতে থাকে। দেবীর কাছে নানা মাঙ্গলিক চাওয়া নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থনা করেন। দেবীর দশমী বিহিত পূজা ও পূজান্তে দর্পণ বিসর্জন দেওয়ার মধ্য দিয়ে আগামী ১৬ অক্টোবর দুর্গোৎসব শেষ হবে। এ বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ১১৮টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরে হচ্ছে ২৩৮টি পূজা। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মন্ডল বলেন, মায়ের কাছে আকুতি, দেশের ও দেশের জনগণের মঙ্গল কামনা। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের অতিমারি থেকে যেন দেশের মানুষসহ আমরা মুক্তি পাই। তিনি বলেন, যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে সবাই যেন উৎসব পালন করে। করোনা মহামারির কারণে সবাই যেন মাস্ক পড়ে স্বাস্থবিধি মেনে চলে। এদিকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এজন্য তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এ ছাড়া মোতায়েন রয়েছে র্যাবের ডগ স্কোয়াড। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথেই সবাইকে তল্লাশি করা হয়। পাশেই র্যাব-১০, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, আনসারসহ কয়েকটি টিম নজরদারি করে। র্যাবের একটি টিম ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকার নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করে। এ নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানার এএসআই নুর উদ্দিন জানান, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবেশপথে সবাইকে চেক করা হচ্ছে। কোনো ধরনের ঝুঁকি যাতে তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে সবগুলো সংস্থা কাজ করছে। এ বিষয়ে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ধর্মদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবে আমি চাই সারাদেশে যেন অসাম্প্রদায়িকভাবে পূজা উদযাপন করতে পারে সবাই। কোথাও যেন কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনার জন্ম না হয়। সবাই উৎসবমুখরভাবে আগামী পাঁচদিন যেন সুষ্ঠুভাবে পূজা করতে পারে। এর আগে গত রোববার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে কেন্দ্রীয় পূজামন্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জঙ্গিরা অনলাইনে সক্রিয় রয়েছে। নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশ তেমন ঝুঁকি না দেখলেও শঙ্কার কথা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না। তাই অনলাইনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মন্ডপের আশপাশে সাদা পোশাকের কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও র্যাব সমন্বিতভাবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলবে। সবার প্রতি আমার অনুরোধ এ উৎসবে কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করা যাবে না। আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্দিরে আসবেন। যারা বয়স্ক এবং টিকা নেননি, তাদের পূজামন্ডপে না আনার অনুরোধ করছি। এদিকে ৬ অক্টোবর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দুস আলী সরকার স্বাক্ষরিত জনস্বার্থে জারি করা এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে করোনাকালীন দুর্গাপূজা উদযাপনে দেশের সব পূজামন্ডপে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিটি মন্দিরের প্রবেশপথে থাকবে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, প্রয়োজনে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
