আলো ডেস্ক: ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল শনিবার ভোর থেকেই যাত্রীদের চাপ বাড়ায় মহাসড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। সরেজমিনে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, টঙ্গী স্টেশন রোড, বোর্ড বাজার, কোনাবাড়ী, শ্রীপুর, মাওনা, কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। রাতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসা, ট্রাক, পিকআপ যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছে। ইদ্রিস আলী নামের ময়মনসিংহগামী একটি বাসের চালক জানান, সকালে একটি ট্রিপ নিয়ে ময়মনসিংহ যাচ্ছি।
দুপুরের মধ্যে ফিরে আরেকটি ট্রিপ ধরতে হবে। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, যাবার সময় পুরো যাত্রী নিয়ে যেতে পারলেও ফেরার পথে খালি বাস নিয়ে আসতে হয়। ভাড়া পুষিয়ে নিতে কিছু টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। জামালপুরগামী যাত্রী একরাম হোসেন জানান, একদিন আগে তার ছুটি হলেও স্ত্রীর ছুটি হয়েছে গতকাল শনিবার সকালে। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তায়। তবে আগের ভাড়া থেকে দুইশত টাকা বেশি দাবি করছেন চালক। এদিকে টঙ্গী রেল স্টেশনে এবং জয়দেবপুর জংশনে সকাল থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যাত্রীরা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
অগ্রিম টিকেট নেওয়া ব্যক্তিরা ঢাকার কমলাপুর থেকে ট্রেনে করে গন্তব্যে পৌঁছাবেন। গাজীপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান আহমেদ সরকার জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিআরটিএ প্রকল্পের কাজের কারণে যানজটের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সে আশঙ্কা দূর করে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলছে। ফলে স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। গাজীপুরের সালনা (কোনাবাড়ি) হাইওয়ে থানার পরিদর্শক মো. ফিরোজ হোসেন জানান, শিল্পকারখানা ছুটি হলে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। যাত্রী বাড়লেও সড়কে চিরচেনা যানজট নেই।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মহাসড়কে যানজট এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা রয়েছে। বিপুল সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ মহাসড়কে কাজ করছে। এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে গণপরিবহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঈদযাত্রায় আজও ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি রয়েছে। কোথাও দীর্ঘ যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে গতকাল শনিবার সকালে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত গাড়ি থেমে থেমে চলছিল। দুপুরে সড়কে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করছিল। নিরাপদে বাড়ি ফিরছেন মহাসড়কে চলাচলরত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ ২৪ জেলার মানুষ। এছাড়াও ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তিমুক্ত বাড়িফেরা নিশ্চিতে ও অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা।
মহাসড়কের করটিয়া, ঘারিন্দা, রাবনা বাইপাস, বিক্রমহাটি, রসুলপুর, পৌলি, এলেঙ্গা, রাজাবাড়ী মোড় ও আনালিয়া বাড়িসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক মানেই ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ। প্রতি বছরই কোনো না কোনো কারণে মহাসড়কে যানজটের কবলে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের। তবে এ বছর যানজট নিরসনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ায় ঈদযাত্রায় স্বস্তি পাচ্ছেন ঘরমুখো মানুষ। মহাসড়কের চলমান চার লেন প্রকল্পের কাজের জন্যও তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে গাজীপুর থেকে কালিহাতির এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকার কাজ। এছাড়াও সবশেষ তিনটি উড়াল সেতুর কাজ অসমাপ্ত থাকলেও ঈদে ঘরমুখো মানুষের যান চলাচলের জন্য খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) এশরাজুল হক জানান, মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে। কিছু স্থানে যানবাহনের গতি একটু কম থাকলেও কোনো যানজট নেই। দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
