আলো ডেস্ক: ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় ও ভাড়ার তালিকা কাউন্টারের সামনে না ঝুলানোয় পাঁচ পরিবহনকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এর মধ্যে তিনটি পরিবহনকে এক হাজার টাকা করে এবং অন্য দুই পরিবহনকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় ভোক্তা অধিকার অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করে। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এখানে এসেছি।
এটা মূলত বিআরটিএ’র কাজ, আমরা এডিশনাল হিসেবে এসেছি। যাতে করে যাত্রীকে কোনো হয়রানি পোহাতে না হয়। যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ শুনে আমরা বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়েছি। তিনি আরও বলেন, গাবতলীর সেলফি পরিবহনকে এক হাজার টাকা, শ্যামলী পরিবহনকে ৫০০, সাথী এন্টারপ্রাইজকে এক হাজার, অরিন ট্রাভেলসকে এক হাজার ও শ্যামনগর পরিবহনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে সেলফি পরিবহনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দীন বলেন, সেলফি পরিবহনে যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে সেটা আমার অগোচরে হয়েছে। তিনি বলেন, আমি প্রত্যেকটি গাড়ির স্টাফকে নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকে এক টাকাও বেশি আদায় না করেন। আশা করি এখন থেকে সব ঠিকঠাকভাবে চলবে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে হাতে গোনা দুয়েকটি বাদে কাউন্টার ভাড়ার তালিকা ঝোলানো নেই। অভিযোগ আছে, কাউন্টার থেকে টিকিট করতে যাত্রীদের ৫০ থেকে ১৫০ টার মতো অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। উত্তরবঙ্গগামী পরিবহনগুলোতে টিকিট সংকট থাকায়, ওই রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অংকটা আরও বেশি।
ক্ষেত্র বিশেষে নির্ধারিত ভাড়ার থেকে প্রায় ৪০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করারও অভিযোগ করেছেন উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা। তবে সঠিক সময়ে বাস ছাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। এ বিষয়ে যাত্রী ও স্টেশন মাস্টাররা বলছেন, ঠিক সময়ই বাস ছেড়ে যাচ্ছে। বরং অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে উপস্থিত হতে পারছেন না।
