আলো ডেস্ক: ছোট-বড় মিলিয়ে সারাদেশে গার্মেন্টসসহ মোট শিল্প-কারখানা রয়েছে ৯ হাজার ১৭৬টি। এর মধ্যে গত সোমবার পর্যন্ত ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ৩ হাজার ১৫১টি কারখানা। শতকার হিসেবে বোনাস পরিশোধের হার ৩৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বাকি ৬ হাজারেরও বেশি কারখানা তাদের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস এখনও পরিশোধ করেনি যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৬৬ শতাংশ। তবে শিল্প পুলিশ বলছে, কোনো সমস্যা ছাড়াই যেন সব কারখানায় বেতন-বোনাস হয় সেজন্য তারা তদারকি করছে। তাই শিল্প পুলিশ আশা করছে বাকি কারখানাগুলোও শ্রমিকের বেতন-বোনাস পরিশোধ করবে।
ঢাকাসহ দেশের আট অঞ্চলে মোট শিল্প কারখানার মধ্যে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত কারখানা এক হাজার ৬১৫টি এবং নিটওয়্যার কারখানা মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত কারখানার সংখ্যা ৬৮৫টি। এছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) কারখানা রয়েছে ৩৩৮টি, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাভুক্ত কারখানা ৩৪৮টি। পাশাপাশি দেশে পাটকল রয়েছে ৮৩টি, চামড়াজাত পণ্য, আসবাব, সেলফোন সংযোজন, ওষুধপণ্যসহ অন্যান্য খাতে রয়েছে ৬ হাজার ১০৭টি শিল্প কারখানা।
এসব কারখানা ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেটে অবস্থিত। এখন পর্যন্ত ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে এমন কারখানার মধ্যে আশুলিয়াতে ৪৩৩টি কারখানা, গাজীপুরে ৮৭৬টি, চট্টগ্রামে ৫৮৮টি, নারায়ণগঞ্জে ৩১০টি, ময়মনসিংহে ১৬৯টি, খুলনায় ১৮১টি ও সিলেটের ৫৯৪টি। এসব এলাকার ৬ হাজার ২৫টি কারখানা এখনও শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দেয়নি। এ নিয়ে শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, গত সোমবার বেশির ভাগ কারখানা মালিক তাদের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করে নি। কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই যেন শ্রমিকরা বেতন-বোনাস পান, এজন্য কঠোর নজরদারি রয়েছে। আশা করা যায় ছুটির আগে শ্রমিকের বেতন-বোনাস হবে।
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র একজন পরিচালক জানান, সদস্যভুক্ত সব কারখানাতেই বেতন-বোনাস দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মিলে ৮ থেকে ১০টি কারখানায় এখনও বেতন-বোনাস হয়নি। তারা আজও বেতন বোনাস-বেতন দিচ্ছে। আশা করা যায়, সদস্যভুক্ত সব কারখানাতে বেতন-বোনাস হবে। তবে সদস্যভুক্ত কারখানা বা সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানার বেতন-বোনাস নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না। আমরা শুধু আমাদের সদস্যভুক্ত রপ্তানীমুখী কারখানা দেখছি। বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প কারখানা ঢাকা-চট্টগ্রাম বিজিএমইএ-বিকেএমইএ সদস্যসহ সব মিলিয়ে চার হাজারের মতো আছে। যাদের বেশিরভাগেরই বেতন-বোনাস হয়েছে।
এর মধ্যে ১০-১২টিতে এখনও বেতন-বোনাস হয়নি, যার মধ্যে তিনটি কারখানা খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। সরকারের সঙ্গে মালিক-শ্রমিক মিলে আলোচনা হচ্ছে যাতে সবগুলোতেই বেতন-বোনাস হয়। সম্প্রতি বিজিএমইএ সদস্যভ‚ক্ত কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছিলো বেতন-বোনাসের দাবিতে, এটাতো আগেই সমাধান করা উচিত ছিলো। শ্রমিক কাজ করবে কেন যদি বেতনই না পান, প্রশ্ন করেন তিনি। শ্রমিক নেতা রনি বলেন, এসব কারখানার বাইরে ছোট ছোট অনেক কারখানা রয়েছে যাদের একটা অংশ পোশাক রপ্তানিও করছে। এসব কারখানাতে বেতন-বোনাস হয়নি।
কেরানীগঞ্জে শুধু টেইলারিং শপ আছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার। আরও পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট কারখানা আছে, যারা সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজ করে। তিনি আরও বলেন, ঈদ এলে কেন বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে শ্রমিকদের। ঈদের পূর্বে বেতন-বোনাস পরিশোধের তাগিদ দেওয়ার পরও রাস্তায় নামছে শ্রমিক। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বেতন-বোনাস দিতে হবে। সরকার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর নজদারি আরও বাড়াতে হবে, যাতে সব শ্রমিক সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে।
