আলো ডেস্ক: বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। গতকাল সোমবার সকালে মিরপুর ১১ নম্বর সড়কে অবস্থান নেন কটন টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা। এদিকে অবরোধের কারণে মিরপুর ১০ থেকে ১২ নম্বর যাওয়ার প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
ফলে আশপাশের সড়কে তৈরি হয়েছে যানজট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। অপরদিকে পোশাকশ্রমিকরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। এর আগে ২৩ এপ্রিল একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলেন এই কারখানার শ্রমিকরা। তারা জানান, গত তিন মাস ধরে বেতন পান না। বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস ২০ এপ্রিল দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও পাননি। উল্টো ১৭ এপ্রিল গার্মেন্টসে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
এরপর থেকে গার্মেন্টস মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা জানান, এই পোশাক কারখানায় তিন শতাধিক কর্মচারী রয়েছেন। এর আগে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। পোশাক শ্রমিক ইউনুস মিয়া বলেন, তিন মাস ধরে বেতন ছাড়া কাজ করছি। কয়েকদিন পর ঈদ, কিন্তু আমাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মালিক উধাও হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তাতেও লাভ হয়নি। খালি হাতে বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়, তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছি।
অন্যদিকে বেতন-বোনাসের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা। গতকাল সোমবার দুপুর একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত তারা জসীম উদ্দিন ও আজমপুর সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে আধা ঘণ্টা পর সড়ক থেকে চলে যান তারা। ইন্ট্রাকো ডিজাইন লিমিটেড এবং ইন্ট্রাকো ফ্যাশন লিমিটেড নামে দুইটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা অবরোধ করেছিলেন।
উত্তরা পূর্ব থানার ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে উত্তরায় অবস্থান নেন শ্রমিকরা। ওই দুটি গার্মেন্টসের মালিক একই ব্যক্তি। ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে তাদের উঠিয়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে মিরপুরেও বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কটন টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা।
