সাজ্জাদুল তুহিন, নওগাঁ
নওগাঁর মান্দায় ইউপি সদস্য কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এক অসহায় ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপি সদস্য কামাল হোসেন উপজেলার মান্দা সদর ইউপির ৯নং ওয়ার্ড সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার সময় উপজেলা সদর ইউপির বাদলঘাটা মৎস্যজীবী পাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে। ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক মৎস্যজীবী পাড়া গ্রামের ওসমান আলী প্রামানিকের ছেলে।
অপরদিকে অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের প্রতিবেশী ফজলুর রহমান, আসাদ আলী, আমির হোসেন, আবুল হোসেন ও জামির হোসেন।ভুক্তভোগী পরিবার জানান, উপজেলার সদর ইউপির ঘোড়াদহ বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর সঙ্গে বাগবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে ইউপি সদস্য কামাল হোসেন এলাকাবাসীকে লেলিয়ে দিয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় বাঁধা প্রদান করলে তারা খুন জখমের হুমকি দিয়ে বসতবাড়ী ভাংচুর করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে আমরা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানান, বাদলঘাটা মৎস্য সমবায় সমিতির অধীনে ঘোড়াদহ বিলটি লিজ নিয়ে আমরা মাছ চাষ করে আসছি। চাষকৃত বিলে কামাল হোসেন এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক মাছ ধরার জন্য পাঠান। সে সময় আমরা বাধা প্রদান করলে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা মহিলা পাঠিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।
ভাংচুরে নেতৃত্বাধীন জামির হোসেনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম বলেন, আমরা সবাই বাড়িঘর ভাঙচুর করেছি, আরো করবো। তাতে জেল হলেও ভালো।
এ ঘটনায় এলাকার আরও একাধিক নারীরা জানান, বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আমরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছি।
ইউপি সদস্য কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।মান্দা সদর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন জানান, আইন লংঘন করে বাড়ি ঘর ভাঙ্গার কারো এখতিয়ার নেই। যদি কেউ করে সেটা অপরাধ করেছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনও অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
