আলো ডেস্ক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে আতশবাজির কারখানায় বজ্রাপাতের পর বিস্ফোরণে দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন জানতো এখানে স্বল্পপরিমাণ পটকা তৈরি হতো। ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পারি বিপুল পরিমাণ পটকা এখানে তৈরি হতো। এসব থেকেই মূলত বিস্ফোরণ হয়েছে। সেই পটকা ও পটকার উপাদানের পাশে একটি বিস্ফোরিত গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া এখানে অন্য কোনো ইস্যু নেই। বজ্রপাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিস্ফোরণের সময় বজ্রপাত হয়েছিল। তাই প্রথমে বজ্রপাতের কথা বলা হয়েছিল। এখানে সিআইডির এক্সপার্টরা কাজ করছে। পরে আরও বিস্তারিত বলা যাবে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, এখানে যারা মারা গেছে তারা শ্রমিক ছিল। তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কারখানার কোন অনুমোদন ছিল কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কারখানার অনুমোদন ছিল না।
তবে এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। এর আগে গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশাটি গ্রামে বোরহান উদ্দিনের আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। সে সময় বজ্রপাতে বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা যায়। এতে দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন- দক্ষিণ বাঁশাটি গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৩০) ও একই গ্রামের আবদুল গণির স্ত্রী আফিলা বেগম (৪৫)। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তখন আমরা মনে করেছিলাম বজ্রপাত হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি বিস্ফোরণে ভবনের ছাঁদ উড়ে গেছে। আমরা জানতাম স্বল্প পরিসরে বোরহান উদ্দিন পটকা তৈরি করতো।
কিন্তু এত বেশি পটকা তৈরি করতো বিষয়টি জানা ছিল না। নিহত আফিলা বেগমের স্বামী আবদুল গণি বলেন, আফিলা সাত মাস ধরে এখানে কাজ করে আসছিল। সপ্তাহে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা মজুরি পেত। নান্দাইল মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, প্রথমে স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরেছিলাম যে বজ্রপাতে আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরে ঘটনাস্থলে এসে বজ্রপাত নয় আতশবাজির ভয়াবহ বিস্ফোরণের বিষয়টি জানতে পেরেছি।
