আলো সা রা দে শ ডেস্ক: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নূন্যতম দুই হাজার টাকা ভাতা, উপবৃত্তি, চাকরিতে নিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতে বিশেষ নীতিমালা প্রণয়নসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন প্রতিবন্ধীদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা ৪১টি সংগঠনের নেতারা। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানববন্ধনে এসব দাবি জানান ৪১টি সংগঠনের নেতারা।
তারা বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এক লাখ চার হাজার প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিকে মাসে ২০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। পরবর্তী সময়ে এটা ধীর গতিতে বাড়তে থাকে। বর্তমানে নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ২৫ লাখ ১৫ হাজার। যদিও ২০২১ অর্থ বছরের মোট ২০ লাখ ৮ হাজার মানুষ মাসে ৭৫০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছে।
বিগত চার বছর ধরে প্রতিবন্ধীদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ভয়াবহ দুরাবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন প্রতিবন্ধীরা। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধা ভাতার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতাকে সর্বজনিন ভাতা হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে- মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা পৌঁছানো।
এরপরও এ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কিছু অসৎ কর্মী দুর্নীতির মাধ্যমে ভাতা লোপাট করছে। ফলে বঞ্চিতরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাছাড়া অনেক প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আসেনি। এসময় নেতারা মানববন্ধনে সাত দফা দাবি জানান। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ২০২২-২৩ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা নূন্যতম ২ হাজার টাকা করা, একই বছর থেকে শতভাগ উপবৃত্তি ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রতিবন্ধীদের চাকরিতে নিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণে নীতিমালা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধীদের নিয়োগ, ৫ শতাংশ কর বাতিল করে আনুপাতিক হারে ৫-৩ শতাংশ প্রতিবন্ধীকর্মী নিয়োগ দিলে ৩-১ শতাংশ কর ছাড়ে বিধান, সরকারি-বেসরকারি সব সেবার তথ্যভান্ডারে প্রতিন্ধিতা বিভাজিত তথ্য দেওয়া, ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়ন ও সংবেদনশীল বাজেট বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবি উল্লেখ করে মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
