রা জ শা হী র আ লোঃ – নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় তিন শিশু বাচ্চাকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জুতাপেটা ও কান ধরে উঠবস করে মীমাংসা করিয়ে দিয়েছেন ইউপি সদস্য শামসুল হক। শামসুল হক উপজেলার ৫নং গণেশপুর ইউপির ৪নং ওয়ার্ড সদস্য।
এ ঘটনা মীমাংসা করে দেওয়ার পর এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও গোপনে অনেকেই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার গণেশপূর ইউপির পারইল হঠাৎপাড়া গ্রামে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলের জোর তদবীর চলছে বলেও জানা গেছে। এঘটনার ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের ভয়ে এখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ করতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবার। ইউপি সদস্য শামসুলের ক্ষমতার দাপটে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুল আজিজ (৪৫) তিনি পারইল মধ্য পাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিক এর ছেলে ও ইউপি সদস্য শামসুল হকের ছোট ভাই।সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুল আজিজ প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া তিন শিশু বাচ্চাকে ৫ টাকার প্রলোভন দিয়ে ধান ক্ষেতের মাঠের মধ্যে নিয়ে যান। মাঠের মধ্যে কৃষকদের বিশ্রামাগারে নিয়ে প্যান্ট খুলে নোংরামি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। ৩ শিশু বাচ্চার চিৎকারে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভয়ে ছেড়ে দেন।
এই কথা যাতে বাড়িতে না বলে এইজন্য বাচ্চাদের ভয় দেখান। পরে তিন শিশু বাচ্চার মধ্যে একজন তার মাকে ঘটনাটি জানিয়ে দেয়। এরপর অপর দুই বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা করলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ৫ টাকার নোট দিয়ে আমাদেরকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খারাপি করেছে। পরে আমরা কান্নাকাটি করলে ছেড়ে দেয়।
বিষয়টি জানার পর, শিশু বাচ্চার অভিভাবকেরা স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুলকে জানালে তিনি মীমাংসা করে দিবে বলে আশ্বস্ত করেন। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইউপি সদস্য রাতারাতি বাচ্চাদের অভিভাবকদের ডেকে নিয়ে তাদের সামনে অভিযুক্ত আব্দুল আজিজকে জুতাপেটা ও কান ধরে উঠবস করে নিয়ে মীমাংসা করে দেন। এরপর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাদেরকে নিষেধ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, ভুক্তভোগী পরিবার গরীব অসহায় এবং সরকারি জমিতে বসবাস করেন। তারা অন্যের বাড়িতে কাজ করে দিন আনে দিন খায়। তাদের কিছু করার মতো কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। এজন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় সালিশ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজনের সাথে কথা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কেঁদে ফেলে বলেন, আমরা গরীব হওয়ায় শিশু বাচ্চাদের সঙ্গে নোংরামি করেছে। এরকম দুষ্কৃতকারী ব্যক্তির শাস্তি হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের বিচার করার ক্ষমতা নেই। অভিযুক্ত আব্দুল আজিজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে তার বড় ভাই ইউপি সদস্য শামসুল, মাদ্রাসা সুপার আব্দুর রাকিব, মিজানুর রহমান, সহ কয়েকজন জুতাপিটা করে মীমাংসা করে দেন। এলাকার মান ক্ষুন্ন হবে বলে ধৈর্য ধরতে বলেন।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য শামসুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার ক্ষমতায় বিচার করেছি। আপনাদের যা করার তাই করেন।
মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রাকিবের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে গনেশপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশিং এর কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, ঘটনাটি জেনেছি অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা চলছে।এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিশু বাচ্চা ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ইউপি সদস্য বিচার করতে পারেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সালিশ বিচার তিনি করতে পারেন না।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনার বিচার ইউপি সদস্য করতে পারেন না।
