আলো জা তী য় ডেস্ক: মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে ভারতে আটক ৫ বাংলাদেশি আগরতলা-আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন। ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহযোগিতায় তাদের ফেরত আনা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে বাংলাদেশের আখাউড়া সীমান্তের চেকপোস্ট দিয়ে তারা দেশে ফেরেন।
আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের পাওয়ায় এ সময় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দেশে ফেরা ৫ বাংলাদেশি নাগরিক হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাঙ্গুনিয়া গ্রামের মণীন্দ্রলাল দেবের ছেলে সন্তোষ দে (৬০), নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার বন্দর এলাকার খালেক সরকারের ছেলে বিজয় চুন্নু (৩০), মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পোড়াদহ গ্রামের মৃত কামাল ব্যাপারীর মেয়ে ময়না বেগম (৫৫), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামের আফাজ উদ্দিন মৃধার মেয়ে রোজিনা বেগম (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের খালেক মিয়ার মেয়ে এবং লিটন সরকারের স্ত্রী কুলসুম বেগম (৩৬)।
গতকাল শুক্রবার সকালে আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় তাদের গ্রহণ করার সময় ত্রিপুরার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ, সচিব আসাদুজ্জামান ও রেজাউল হক, আখাউড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম, ওসি (ইমিগ্রেশন) আবু বকর ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরকালীন সময় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে ফেরত আসা সবাইকে জরুরি সহায়তা হিসেবে খাবার, কাউন্সিলিং সেবা ও নগদ ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
আখাউড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান তাদের হাতে এগুলো তুলে দেন। এর আগে ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, যারা ফিরেছেন, তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা কিছুই স্মরণ করতে পারছেন না। কীভাবে তারা সেখানে পৌঁছান, সেটিও তাদের মনে নেই।
তারা পাচার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, যারা ফেরত এসেছেন তারা এমন কিছু বলতে পারেনি। কীভাবে তারা ভারতে আসেন, বিষয়টি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তদন্ত করছেন। আখাউড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আক্তার বলেন, দেশে ফেরা সবাইকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ভারত থেকে ফেরা পাঁচ বাংলাদেশিই মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (বিএসএফ) হতে আটক হন।
পরে আদালতের নির্দেশে আগরতলার মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কয়েকজন এই হাসপাতালে চার থেকে পাঁচ বছর বা আরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তাদের দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজন চুন্নু মিয়া মানসিকভাবে সুস্থ হলেও শারীরিকভাবে অসুস্থ।
তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। ফেরত আসা ময়না বেগমের ছেলে মনির হোসেন বলেন, আমরা চার ভাই ও এক বোন। ভাইদের মধ্যে আমি ছোট। একবছর আগে বোন আগরতলায় আছে জানতে পারি। বোনের মানসিক সমস্যা ছিল। হারিয়ে যাওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও বোনকে পায়নি। বহুবছর পর পেলান।
