আলো জা তী য় ডেস্ক: আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় কৃষি সচিব এ কথা জানান। তিনি বলেন, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে থাকি। এখন পর্যন্ত কৃষক পেঁয়াজের ভালো দাম পাচ্ছেন। অন্যদিকে সামনে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে।
এ সময়ে পেঁয়াজের দাম যাতে না বাড়ে, সেটিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। তাই আপাতত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পরিকল্পনা কৃষি মন্ত্রণালয়ের নেই। তবে আমরা নিবিড়ভাবে বাজার মনিটর করছি। কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সায়েদুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন কিছু দিন আগে পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। তখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ওপেন করা হয়। আইপি ওপেন করার প্রতিফলন আমরা বাজারে দেখতে পারছি।
এখন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে, পেঁয়াজের দাম কমে যাচ্ছে। তবে এখানে আপনারা দেখে থাকবেন আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কমেছে। কিন্তু আমাদের দেশি পেঁয়াজ চাষিরা যেটা মাঠ থেকে তুলছে সেটার ভালো দাম আছে। সচিব আরও বলেন, কিছু গণমাধ্যমে দেখলাম ২৭, ২৮ ও ২৯ তারিখের পর আইপি বন্ধ করে দেওয়া হবে এমন খবর। আপনাদের অবগত করার জন্য জানাতে চাই, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আইপি ইস্যু করা বা বন্ধ করা এরকম কোনো নির্দেশনা বা পরিকল্পনা আমাদের নেই। সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সংখ্যা ৭৭টি।
মোট বরাদ্দ ৩ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৪০ শতাংশ। যা জাতীয় গড় অগ্রগতিরে চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। এ সময়ে জাতীয় গড় অগ্রগতি হয়েছে ৩৫ শতাংশ। সেচের পানি না পেয়ে কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনায় কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান সচিব। ‘রাজশাহীতে সেচের পানি না পেয়ে কৃষকের আত্মহত্যা’ বিষয়ে তদন্তের জন্য গত রোববার চার সদস্যের কমিটি করে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ কমিটি রাজশাহীতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তকাজ শুরু করেছে।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে কমিটিকে। কৃষি সচিব বলেন, খবরটি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা খোঁজ নিয়েছি। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেচের পানি সময়মতো না পাওয়ার কারণ ও কৃষকের বিষপান বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি করেছি। সচিব বলেন, সেচের পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আর পুলিশও তদন্ত করছে, তারা ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বোরো ধানের জমিতে সেচের পানি না পেয়ে অভিমানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দুই চাচাতো ভাই রবি মার্ডি ও অভিনাথ মার্ডি ২৩ মার্চ কীটনাশক পান করেন। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন দুজনই। এরপর ২৪ মার্চ অভিনাথ মার্ডি মারা যান। ২৬ মার্চ মারা যান রবি মার্ডি। মঙ্গলবারের সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধান ও প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
