আলো জা তী য় ডেস্ক: বাংলাদেশ ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার তিন দেশের (নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেন) মধ্যে নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার মধ্যমে কৌশলগত স্তরে সম্পর্ক জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রগুলোতে কৌশলগত যোগাযোগের লক্ষ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে উভয়পক্ষেই সহযোগিতার নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার ভেন্ডসেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্টাপ পিটারসেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ভন লিন্ডা সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের সঙ্গে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার তিন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান রাষ্ট্রদূতরা। এ সময় কূটনীতিকরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অব্যাহত সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গত ৫০ বছর ধরে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার তিন দেশ আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের সমর্থনে এ তিন দেশের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাদের সাহায্য ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর কীভাবে এ দেশের গণতন্ত্র খর্ব করা হয়েছিল সে ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, সামরিক শাসকরা গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত করেন। তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাম-কেন্দ্রিক উন্নয়ন ও সবার কাছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
এ সময় কূটনৈতিকরা বাংলাদেশ ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তারা বলেন, তাদের দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। তারা বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সামাজিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। কূটনৈতিকদের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাড়ি করে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জবাবে, শেখ হাসিনা বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে বাড়ি উপহার দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশে গ্রামীণফোনকে অপারেট করতে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে তিনি টেলিযোগাযোগকে বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেন। আর এর ফলে এখন সাধারণ মানুষও এ সেবা পাচ্ছে। এসময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।
