রা জ শা হী র আ লোঃ – তথ্যবিবরণী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি বলেছেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কিছু নিত্যপণ্যের দাম নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। রমজান মাস আসলেই যেন আমাদের দেশে জিনিসপত্রের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রমজান মাসে দাম থাকে সবচেয়ে বেশি। এবার আমরা এ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাজই হল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গতকাল দুপুরে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার কাঁকড়ামারী বাজারে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১ কোটি পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে বেশি লাভের জন্য ন্যায্য মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্যে দ্রব্য বিক্রি করে। নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা আমাদের কাজ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য ১ কোটি পরিবারকে পারিবারিক কার্ডের আওতায় টিসিবি’র মাধ্যমে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। যদিও খুব বেশি নয় তবুও রমজান মাস উপলক্ষ্যে ৪ কেজি ডাল, ৪ কেজি চিনি, ৪ লিটার তেল একটি পরিবারের জন্য অনেক উপকারে আসবে।
মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস এরকমই। মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। আবার মানুষের তৈরি দুর্যোগও মোকাবিলা করতে হয়। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ২ টাকা লাভের জায়গায় ১০ টাকা লাভ করতে পণ্য সংরক্ষণ করে রাখে, অনেকসময় পণ্যগুলি নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে সেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশেরও ক্ষতি হয়।
তেলের দাম বাড়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেলের দাম শুধু বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে তা নয়, তেলের দাম পৃথিবীর সবদেশে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেহেতু সবধরণের পণ্য উৎপাদিত হয়, তাই পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু আমদানি নির্ভর চিনি, সয়াবিন, ডাল এ তিনটি পণ্যের দাম বাড়ায় দুই দফায় ২ কেজি করে এ পণ্যগুলো ভর্তুকি মূল্যে দেয়া হচ্ছে। চারঘাট উপজেলার ১৪ হাজার ৯০০ পরিবার পারিবারিক কার্ডের আওতায় পণ্যগুলো স্বল্পমূল্যে পাবে। বাজারে তেলের কেজি প্রতি মূল্য ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা সেটি দেয়া হবে ১১০ টাকায়, চিনি দেওয়া হবে ৫৫ টাকায় ও ডাল দেয়া হবে ৬৫ টাকায়। একটি পরিবার মোট ৪৬০ টাকায় ৬ কেজি পণ্য ক্রয় করতে পারবে।
এসয় তিনি সবাইকে ধৈর্য্য ধারণসহ পণ্য ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের দায়িত্ব যত দ্রুততার সাথে মানুুষের কষ্ট লাঘবের ব্যবস্থা করা। রমজান মাসকে সামনে রেখে আমরা পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। বাজারে কেউ অবৈধ উপায়ে পণ্য মজুত না করে এবং অন্যায্যভাবে বেশি দাম না নেয় সেজন্য সবাইকে সর্তক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এ সমস্যার সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বছর বছর প্রযুক্তির উত্তরোত্তর উৎকর্ষ সাধন হওয়ায় কৃষি প্রযুক্তিকে এখন আমরা এমন জায়গায় নিয়ে গেছি যেখানে ছোট্ট একটি দেশ হয়েও ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন করতে পারছি।
তিনি বলেন, কৃষি এখন আমাদের রক্তের মধ্যে, আমাদের জিনের মধ্যে ঢুকে গেছে। নতুন প্রযুক্তি দেখলেই এটা কি ওটা কি করতে করতেই আমরা এতদূর অগ্রসর হলাম। এসব প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতার জন্যই সম্ভব হয়েছে। আমরা কৃষিতে স্বাবলম্বী হতে চাই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বাংলাদেশের মাটি এমন উর্বর যেখানে বীজ ফেলে রাখলে ছাগলে না খেলে, মানুষে না কাটলে গাছ হয়। আগে যে মাটিতে বছরে দুটো ফসল হতো না এখন সেখানে তিনটি ফসল হয়। কৃষির গুরুত্ব বুঝে আমরা কৃষির জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছি। পাঠ্যসূচিতে কৃষি শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদ করা হয়েছে। আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদের জ্ঞান আরও বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি সবাইকে প্রযুক্তিগত কৃষিতে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
