আলো জা তী য় ডেস্ক: দেশের সর্ববৃহৎ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রার প্রথম ফেইজের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ বিনিয়োগে তৈরি ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট থেকে বর্তমানে মোট ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ২০২০ সালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম পর্যায়ের দুটি ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।
তবে নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে কয়েক দফা ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও সর্বশেষ যে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিলো তা থেকে ১শ মিলিয়ন ডলার কম খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উদ্বোধন করবেন। পটুয়াখালী পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ আবদুল মওলা বলেন, সর্বশেষ ২.৪৫ বিলিয়ন ডলার নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করলেও আমাদের ১শ মিলিয়ন ডলারের মতো সাশ্রয় হয়েছে। এখন চলছে ২য় ফেইজের নির্মাণ কাজ।
আগামী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেটির নির্মাণ কাজও শেষ হবে। ফলে এই প্লান্ট থেকে তখন ২৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এদিকে আগামীকাল ২১ মার্চ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চলছে প্রস্তুতি। পাশাপাশি এই সফরে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে একটি সমাবেশেও অংশগ্রহণ করবেন।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মন্ত্রী পরিষদের অন্তত ২০ জন সদস্য, সংসদ সদস্য, ত্রিশের অধিক সচিব এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডররা উপস্থিত থাকবেন। এই সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎতায়নেরও ঘোষণা দেবেন। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালীতে পায়রা ১৩২০ মেঘাওয়াট তাপবিদুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ আধুনিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পরিবহনের জন্য রয়েছে নিজস্ব জেটি। যা সম্পূর্ণ ঢাকনাযুক্ত কনভেয়ার বেন্ট’র মাধ্যমে কয়লা ডোমে কয়লা পৌঁছে দেয়। ২০২০ সালের ১৫ মে থেকে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরু করে এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে দুটি ইউনিটে মোট ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা লাভ করে। তবে সঞ্চালন লাইন নির্মাণ না হওয়ায় এখন একটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। যার ফলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে ১৩২০ মেগাওয়াটের পুরটাই সরবরাহ করা যাবে বলে জানান পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত করা হয়েছে বর্ণিল রঙে সুসজ্জিত ২২০টি নৌকা। উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নজীবপুর গ্রামের আন্ধারমানিক নদীর তীরে বরিশাল চারুকলা বিদ্যালয়ের ১০ জন শিল্পী এ নৌকাগুলোকে প্রস্তুত করেছেন। প্রায় ৪ দিন ওই ১০ শিল্পীসহ মোট ৩৫ জন সহকারীর প্রচেষ্টার পর এ নৌকাগুলোর সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। লাল, সবুজ, নীল এবং হলুদ রঙে এগুলো সজ্জিত করা হয়েছে। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাওয়ার সময় এসব নৌকা রাবনাবাদ নদী মোহনায় সারিবদ্ধ করে রাখা হবে। এর মধ্যে ১শ নৌকা থাকবে পালতোলা, ১শ নৌকায় থাকবে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেষ্টুন এবং বাকি ২০টি নৌকায় থাকবেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
প্রতিটি নৌকায় রঙ-বেরঙের পোশাকে ২ জন করে মোট ৪শ জন জেলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী নৌকা পরিদর্শনকালে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হবে রাবনাবাদ চ্যানেল। উপকূলীয় মানুষের জীবনাচরণ ও নদীভিত্তিক অর্থনীতিতে এ অঞ্চলে মানুষের ইতিহাস-ঐতিহ্য এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে। পর্যটন উদ্যোক্তা জলতরণীর স্বত্তাধিকারী আরিফ রহমান বলেন, নৌকাগুলো প্রস্তুতের সময় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে চারুকলা শিল্পীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছি। চারুকলার শিক্ষার্থীর হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় নৌকাগুলো মনভোলানো সাজে সজ্জিত হয়েছে। বরিশাল চারুকলা বিদ্যালয়ের প্রধান শিল্পী তাপস কর্মকার জানান, স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্যে উদ্ধুদ্ধ হয়ে চারুকলা বিদ্যালয়ের শিল্পীরা বেশির ভাগ লাল এবং সবুজ রঙ ব্যবহার করে বিভিন্ন আল্পনায় এসব নৌকাগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। এ ছাড়া সাদা, হলুদ এবং নীল রং ব্যবহার করা হলেও এ নৌকায় কোন কালো রং ব্যবহার করা হয়নি।
দিনরাত মিলিয়ে ৪ দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পর নৌকাগুলোতে আল্পনার কাজ শেষ হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোটের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ প্রিন্স জানান, উপকূলের মানুষের জীবনযাত্রা তুলে ধরতেই এ নৌকা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ মার্চ পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন করবেন। ২০১৬ সালে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধনও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
