রা জ শা হী র আ লোঃ – সাজ্জাদুল তুহিন: নওগাঁ
নওগাঁর মান্দায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন (এনটিআরসিএ’র) নির্বাচিত শিক্ষকদের নিকট থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ কালিকাপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিরতে নির্বাচিত প্রার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ১৭ জানুয়ারি ২০২২ইং তারিখের স্মারক অনুযায়ী সুপারিশ করা হয়। সুপারিশ পত্র অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এসএমএসের মাধ্যমে অবহিত করা হয়।
সেই আলোকে সুপারিশ পত্রে উল্লেখিত তারিখের মধ্যে যোগদান করার নিয়ম রয়েছে ওই শিক্ষকদের। সে অনুযায়ী শিক্ষকগণ স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে উল্লেখিত তারিখে মধ্যে যোগদান করবেন। নিয়ম অনুযায়ী ৫ জন শিক্ষক উপজেলার কালিকাপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় যোগদান করতে যান। যোগদানের সময় ওই ৫ শিক্ষক অধ্যক্ষের নিকট অর্থনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ। নির্বাচিত ৫ শিক্ষকদের মধ্যে ৪ জন টাকা দিয়ে যোগদান করলেও এদের মধ্যে দুলাল উদ্দিন নামে এক শিক্ষক টাকা দিতে না পারায় নির্ধারিত তারিখের মধ্যে যোগদান করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী দুলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর সুপারিশ পত্র অনুযায়ী যোগদান করতে গেলে, অধ্যক্ষ ৫০ হাজার এবং কমিটির নামের ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়াও এমপিও করতে গেলে ঝামেলা হবে বলে তিনি জানান। উক্ত দাবীকৃত অর্থ দিতে না পারায় আমি নির্ধারিত (২০ ফেব্রুয়ারি) তারিখের মধ্যে যোগদান করতে পারিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য যোগদানকৃত কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদের প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে গেলে আমাদের কাছ থেকে কিছু অর্থ দাবি করেন। উক্ত অর্থ দিতে অস্বীকার করলে তিনি বলেন, অর্থ না দিলে এমপিও করতে আপনাদের কে ঝামেলা পোহাতে হবে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানকে মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য কিছু অর্থ দিতে হবে।
এমতাবস্থায় নিরুপায় হয়ে আমরা ৪ জন শিক্ষক তার দাবীকৃত অর্থ দিয়ে যোগদান করি। দুলাল নামে একজন শিক্ষক টাকা দিতে না পারায় যোগদান করেননি তিনি। নাম যাতে প্রকাশ না হয় এই জন্য ভূক্তভোগী শিক্ষকরা বারবার প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন। নাম প্রকাশ করলে তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে অনেক সমস্যা হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে যান।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ আলম সেখের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, অর্থ দিয়ে যোগদানের কোন নিয়ম নেই। যদি অর্থ নিয়ে থাকেন তাহলে অপরাধ করেছে। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবু বাক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান,:অর্থ নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
