আলো জা তী য় ডেস্ক: আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলসহ সব মহলের সঙ্গে পরামর্শ করে তৈরি করা হবে রোডম্যাপ। গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী রোববার থেকে ধারাবাহিক সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পর্যায়ক্রমে শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, নির্বাচন বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বসবে সংস্থাটি। মো. আলমগীর বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় সবার পরামর্শের আলোকে তৈরি করা হবে রোডম্যাপ। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা প্রয়োজন তা করার চেষ্টা করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে সবার শেষে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
পরদিন তারা শপথ নিয়ে প্রথম অফিস করেন ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর পুরোদমে এখনো কাজ করেনি কমিশন। এর মধ্যে জাতীয় স্মৃতীসৌধ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি শ্রদ্ধা নিবেদন, সমাধীসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, ভোটার দিবস উদযাপন ও নানা আনুষ্ঠানিকতা করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এত তাড়াতাড়ি আগের কোনো কমিশন মতবিনিময় বা সংলাপে বসার উদ্যোগ নেননি।
অবশ্য দায়িত্ব নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন- আমরা দলগুলোকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে পারি। নির্বাচন কমিশন সর্বশেষ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপে বসেছিলেন ২০১৭ সাল। সে বছর ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে কার্যত ওই সংলাপ শুরু হয়েছিল। এরপর ৪০টি রাজনৈতিক দল, নারী নেতৃত্ব, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের সঙ্গেও বসেছিল তৎকালীন কেএম নূরুল হুদার কমিশন। সর্বশেষ সংলাপ থেকে আসা সুপারিশের মধ্য থেকে দু’টো প্রধান ভাগে ভাগ করে নির্বাচন কমিশন।
এর মধ্যে একটি অংশ নিজেদের এখতিয়ারভুক্ত। অন্যদিকে সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। সরকারের এখতিয়াভুক্ত সুপারিশগুলো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায় কমিশন। আর অন্যগুলো নিজেদের কর্মপরিকল্পনার ভেতর অন্তর্ভুক্ত করেন। কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনের অধীনেই আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের শুরু থেকেই হাতে নিতে নির্বাচনী প্রস্তুতি। আর তার আগেই সংলাপের আয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন সচেতন মহল।
