রা জ শা হী র আ লোঃ – নাচোল প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ এর অশালীন আচরণে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান- বীর মুক্তিযোদ্ধারা সহ তাদের পরিবার। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তি করারও অভিযোগ উঠেছে। কথায় কথায় সেবাগ্রহীতাদের ভ্রাম্যমান আদালতের ভয় দেখানো,আদিবাসী নেত্রী কে সরকার দলীয় লোক দিয়ে হুমকি দেখানো সহ সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মোটা দাগে নাচোল ইউএননও শরিফ আহম্মেদ এর বিরুদ্ধে।
তার অপসারণের দাবীতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে এবং গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সাধারণ এক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত একটা অভিযোগপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় বরাবর পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও মাননীয় মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী ও জেলা প্রশাসকে অনুলিপি পাঠিয়েছে। ইউএনও’র দ্রুত বদলির দাবী জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকার সচেতন মহল ।
অভিযোগকারি নাচোল উপজেলার কসবা ইউপির কেন্দবোনা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মেদ রেজার ছেলে মোবারক রেজা জানান,গত ১৭-০২-২০২২ তারিখ সন্ধ্যা ৬.১০ টায় সময় আমার আপন বোন মোসা-শামীমা খাতুন (বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে) অথাৎ তার মেয়ে আমার আপন ভাগ্নী মুসফিরাত আহম্মেদ এবার এসএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীন্ন হয়ে রাজশাহী কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
আবেদনে মুক্তি যোদ্ধা পরিবারের কোটা হিসেবে প্রত্যয়ন পত্র নেওয়ার জন্য আমি ওইদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসের সামনে অপেক্ষা করতে থাকি। নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহম্মেদ এর নিকট গিয়ে “মুক্তিযোদ্ধা” পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি পরিচয় দিলে ইএনও শরীফ আহম্মেদ আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করেন যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।
সঙ্গে সঙ্গে আমার দু চোখ দিয়ে পানি গড়াতে থাকে ফলে আমি তার অফিস থেকে বের হয়ে যায়। আমি ওই সময় তার ঘর থেকে বের হলে তিনিও আমার পিছু পিছু বাইরে চলে আসেন এবং লোক সমাজের মধ্যে আমার পিতা (বীরমুক্তি যোদ্ধা) কে কটাক্ষ করেন এবং মুক্তি যোদ্ধার প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য আবেদন করতে বলেন।
পরিশেষে তার নিকট থেকে কোন সহযোগীতা না পেয়ে ওইদিন বাড়ি ফিরে আসি। উল্লেখ্য যে, ওই দিন তিনি আমার পরিচয় জানার পরেও আমাকে ৫ ঘন্টা দাড় করিয়ে রেখেছেন তার অফিসের সামনে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে ন্যায় সঙ্গত কারনে তার নিকট এমন আচরণ পাবো সেটা কোন দিন ভাবতেই পারিনি। তাই ন্যায় বিচারের সার্থে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে জনাব শরীফ আহম্মেদ এর বদলীসহ তার শাস্তির জোর দাবী জানাচ্ছি।
এছাড়া অভিযোগ কারি নাচোল উপজেলার জোতামতি গ্রামের মৃত কশির উদ্দিনের ছেলে হাফিজুর রহমান জানান,সম্প্রতি আমার প্রতিবেশী ১। মোসাঃ পারভীন ২। মোসাঃ সাকিনা খাতুন উভয় পিতা সাত্তার আলী, সাং- জোতামতি, উপজেলা-নাচোল,জেলঃ-চাঁপাইনবাবগঞ্জগণ তাদের নিজেস্ব পাকা বাড়ির থাকা শর্তেও গৃহহীন হিসেবে তাদেরকে ঘরবাড়ি দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহম্মেদ। এ বিষয়টি ইউএনও মহোদ্বয় কে অবহিত করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহাম্মেদ আমার সাথে মারমূখী খারাপ আচরণ ও লাঞ্জিত করেন ।
সেই সাথে আমাকে ভ্রাম্যমান করে জেল হাজতের ভয় ভীতিও দেখান তিনি। বর্তমানে ইএনও’র এরুপ আচরনে আমি ও আমার পরিবার আতংকের মধ্যে জীবন যাপন করছি।তিনি আরো বলেন,আমার বাড়ির পাশে ১৫০ শতক সরকারী ফাকা জায়গা রয়েছে।উক্ত জায়গায় প্রধান মন্ত্রীর উপহার সরূপ ঘরবাড়ি নির্মানের জন্য ইউএনওকে জানালে সে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে বলেন যে, কোথায় বাড়ি ঘর দিবো সেটা আমার ব্যাপার সরকার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, তোমাকে নয় বলেও তিনি আমাকে লোক সমাজে ধমক দিচ্ছেন।
নাচোল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) মতিউর রহমান জানান,আমাদের ইউএনও সাহেব একজন হিন্দু বিদ্ধেশী। আমাদের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের শ্রী আরতি বর্মনের নামে একটি সরকারি বাড়ি বরাদ্ধ দেয় সরকার। এখন পর্যন্ত তাকে বাড়িটি নির্মাণ করে দিচ্ছে না ইউএনও। আরতি বর্মনের সাথে ইউএনও যে ব্যবহার করেছেন তা একজন মানুষ হিসাবে তা করতে পারে না।তিনি আরো বলেন গত মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নবাগত জেলা প্রশাসক গালিভ খান নাচোলে মতবিনিময়ে আসেন সেখানে আমাদের কোন মুক্তিযোদ্ধাদের ডিসি সাহেব কে ফুল দিতে দেয়নি ইউএনও।তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কেন এমনটি করে!
এদিকে নাচোল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মশিউর রহমান বাবু বলেন,ইউএনও যোগদানের পর কারো কোন কথাই শুনছেন না।তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যে খারাপ ব্যবহার করছেন তা দেখে আমাকে নিজেই লজ্জা লেগে গেছে। মানুষ হিসাবে কিভাবে এমনটি করতে পারে।
আদিবাসী নেত্রী শ্রীমতি নয়নতারা বলেন,গত ১০ফব্রুয়ারি আমি নাচোল উপজেলা ইউএনওর দপ্তরে একটি অভিযোগের তদন্তে অংশগ্রহন করলে তিনি এক দলীয় ক্যাডার দিয়ে তাঁর দপ্তরে আমাকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখায়। উল্লেখ্য যে ইউএনও শরীফ আহম্মেদ নাচোলে যোগদান করার পর,বীরমুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক সমাজ, আদিবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকের সাথে খারাপ আচরণ, গালিগালাজ, ক্ষমতার অপব্যাবহার করে যাচ্ছেন।
তাঁর এমন আচরন এর কারনে নাচোল উপজেলার সকল বীর মুক্তিযোদ্ধারা গত ২১ ফেব্রুয়ারীতে আলোচনা সভায় না গেলে তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্থলে তার পিতাকে মুক্তি যোদ্ধা দেখিয়ে অনুষ্ঠান পার করেছেন। তার এরুপ আচরণে নাচোলের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাও আজ ক্ষুব্ধ। সচেতনমহলের দাবি যাদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই বাংলাদেশ। তারাই যদি বঞ্চনার শিকার হয় তাহলে বঙ্গবন্ধু কেই অবমাননা করা হয়। ইউএনও একজন জনগনের সেবক মাত্র,জনগনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সেবা প্রদান করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়ে নাচোল ইউএনওর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে যেহেতু অভিযোগ করেছে সেটি মন্ত্রনালয় দেখবে।
এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আাহম্মেদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি রাজশাহীতে মিটিং এ আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব বলে জানান।
