আলো ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকি শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা অনেকটা দুর্বল হওয়ায় প্রায় সবাইকেই স্যালাইন ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তানভীর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গত বুধবার অনশনে বসলেও বাবার অসুস্থতাজনিত কারণে পরদিন একজন বাসায় চলে গেছেন। গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত বাকি ২৩ জনের প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ১০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ৩ জনকে জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৩ জনকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অসুস্থ তিন শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত বুধবার বিকেল থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী বসেছেন আমরণ অনশনে। তাদের দাবি, উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।
কাফনের কাপড় পরে ও প্রতীকী লাশ নিয়ে মৌন মিছিল: উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কাফনের কাপড় পরিধান করে প্রতীকী প্রতিবাদ মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় স্ট্রেচারে করে এক শিক্ষার্থীর প্রতীকী লাশ বহন করেন তারা। গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তারা মৌন মিছিল করেন।
এর আগে, বিকাল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে জমায়েত হন শিক্ষার্থীরা। পরে গোল চত্বর থেকে কাফনের কাপড় পরিধান করে প্রতিবাদী মৌন মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষে শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান বলেন, আমাদের এ কাফন পরিধান একটা প্রতীকী চিত্র মাত্র।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর এ চিত্র বাস্তবে রূপও নিতে পারে। আমাদের যারা ভাই-বোন অনশনে রয়েছেন, তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন চিত্র হতেও পারে। অনশনে যারা আছেন, তারা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না। এ ছাড়া আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৬টায় ক্যাম্পাসে মোমবাতি প্রজ্বলন করে।
