আলো ডেস্ক: গুমের শিকার ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশের জেরা এবং পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে এসে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়াসহ হয়রানির অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন।
গতকাল শনিবার গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে না দাঁড়িয়ে তাদের হুমকি দেওয়া ও হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’ বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ এবং এর প্রতিকারের জন্য সরকারের ওপর চাপ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্দেশেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ প্রয়োগসহ হয়রানি করছেন।
ভুক্তভোগী নাগরিকদের ওপর এ ধরনের জুলুম করে কেউ কখনো রেহাই পায়নি ইতিহাস সে কথাই বলে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘গুমের শিকার ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছে’ ‘পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্য গোপন করা হয়েছে’ এ সমস্ত বাক্য লিখে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া শুধু অন্যায় নয়, এটা অপরাধ।
এ কাজে জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। গণসংহতির নেতারা আরও বলেন, পুলিশের প্রতি সরকারের এই ধরনের নির্দেশনা বাংলাদেশের জনগণের জীবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই সামনে নিয়ে আসে।
কেননা ইতোমধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ভেতর দিয়ে গুম করার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বহিনীর সুস্পষ্ট যুক্তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু ভোট ডাকাতির ও জনস্রতিহীন সরকার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সেটাকে আমলে না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করার উদ্যোগ নিচ্ছে। বিবৃতিতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের জোয়াল ভেঙে বাংলাদেশে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্ব।
