আলো ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, শুধুমাত্র গাড়ির চালকদের ওপর আইন প্রয়োগ করে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। কারণ, দুর্ঘটনার জন্য দোষ শুধু চালকদের নয়।
এজন্য দরকার জনসচেতনতা। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য রোড আয়োজিত ‘আকাশ-সড়ক-রেল-নৌপথ দুর্ঘটনার সংখ্যা-কারণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শাহজাহান খানের এমন বক্তব্যের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু লোকের প্রাণহানি হয়।
অনেকেই অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। লঞ্চটির ইঞ্জিন কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণার কথা জানিয়েছেন বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া।
তবে চলাচলে সময় ট্রাফিক আইন মানাসহ সতর্ক থাকার প্রতি ইঙ্গিত করে সাবেক নৌমন্ত্রী বলেন, রাস্তা পারাপারের সময় মোবাইলে কথা না বলা, যত্রতত্র পারাপার না হওয়া এবং ট্রাফিক আইন মানার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে।
দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকেরা দায়ী নয়। রাস্তার মাঝখান দিয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে হেঁটে যাবেন, তখন একটা গাড়ি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চালকের দোষ দেওয়া হয়, এ বিষয়গুলো আমাদের চিন্তা করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এককভাবে চালকেরা দায়ী নয়- দাবি করে তিনি বলেন, জনসচেতনতার পাশাপাশি চালকদের ট্রেনিংসহ সব সুযোগ-সুবিধা দিলে তবেই দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
শাহজাহান খান আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনাসহ উত্তরবঙ্গের ঢাকাগামী ট্রাক ও লং রোডে যেসব ট্রাক চলাচল করে সেসব গাড়ির চালকদের দিনের পর দিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের বিশ্রামের জায়গা নেই, খাওয়ার জায়গা নেই, থাকার জায়গা নেই। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যাধুনিক চারটি টার্মিনাল নির্মাণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
সেসব টার্মিনালে ট্রাকচালকদের জন্য সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। আমি মনে করি, অবশ্যই এর সুফল কয়েক বছর পর পাওয়া যাবে। আগে আমাদের দাবি ছিলো হাইওয়ে রোডগুলো ফোর লেন ও সিক্স লেনের, এখন কিন্তু তা হচ্ছে। তিনি বলেন, চালকদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না দিয়েই আমরা বলি, বেপরোয়া গতির গাড়ির জন্য দুর্ঘটনা হয়, এজন্য ড্রাইভার দায়ী।
আমি অস্বীকার করবো না যে, ড্রাইভাররা বেপরোয়া গাড়ি চালায় না। কিন্তু এজন্য ড্রাইভারদের এককভাবে দায়ী করা যাবে না। ড্রাইভারদের ট্রেনিংসহ সব সুযোগ-সুবিধা দিলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।
তবে এমন যদি কেউ মনে করে সড়ক দুর্ঘটনা একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে, সেটা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নাই যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নেই। সর্বনিম্ন দুর্ঘটনার দেশগুলোতেও বছরে দুই থেকে আড়াই শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য রোডের প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী ও মহাসচিব শান্তা ফারজানা প্রমুখ।
