আলো ডেস্ক: বাংলাদেশে সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রবেশ করে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাতে জ্বালানিসহ দু’দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এরআগে দুপুর পৌনে ১টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের রাষ্ট্রপতি। সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর ও সবশেষ একটি চারাগাছ রোপণ করেন তিনি। এরপর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান তিনি।
সামাজিক মাধ্যম টুইটারে ভারতীয় কূটনীতিক অরিন্দম বাগচী জানিয়েছেন, দর্শনার্থী বইয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের চেতনা আমাদের চিন্তা ও কর্মে অব্যাহত থাকুক।’ স্মৃতিসৌধে রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে তার স্ত্রী ভারতীয় ফার্স্ট লেডি সবিতা কোবিন্দ ও তাদের মেয়ে স্বাতী কোবিন্দ ছাড়াও ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। মুজিব শতবর্ষ ও মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনে অংশ নিতে তিনদিনের সফরে গতকাল বুধবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সস্ত্রীক ঢাকায় পৌঁছান ভারতীয় রাষ্ট্রপতি।
তিনি ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখানে প্রতিবেশি দেশের রাষ্ট্রপতি ও ফার্স্ট লেডি সবিতা কোবিন্দকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও ফার্স্ট লেডি রাশিদা খানম। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে রামনাথ কোবিন্দকে স্বাগত জানানো হয়। তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেয়। দেওয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা।
গার্ড পরিদর্শনকালে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে লাইন অব প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রামনাথ কোবিন্দের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ভারতীয় ফার্স্ট লেডি সবিতা কোবিন্দ ও তাদের মেয়ে স্বাতী কোবিন্দ, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী, দুজন সংসদ সদস্য এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলাসহসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতির বৈঠক হবে। সেখানেও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
এরপর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির আয়োজনে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৈশভোজে যোগ দেবেন। সফর সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতীয় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ব্যবহৃত দুটি প্রতিরূপ, রাশিয়ার তৈরি টি-৫৫ ট্যাংক এবং মিগ-২১ ভিন্টেজ বিমান উপহার হিসেবে দেবেন।
ভারতীয় রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন। সফরের দ্বিতীয়দিনে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ১৬ ডিসেম্বর ন্যাশনাল প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে যোগ দেবেন।
বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশের জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানাতে এবং বিজয়ের আনন্দ উদযাপনের জন্য ‘মহান বিজয়ের বীর’ শিরোনামে রামনাথ কোবিন্দ একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। সফরের তৃতীয়দিনে ১৭ ডিসেম্বর ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রমনা কালী মন্দিরের নতুন সংস্কার করা অংশের উদ্বোধন ও পরিদর্শন করবেন। ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতির।
