স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে ব্ল্যাকমেইল করে বয়সে ১৯ বছরের বড় এক নারীর সঙ্গে বিয়েতে বাধ্য করা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং তালাক দেওয়ার জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন মো. মাহফুজ আহমেদ রিফাত নামের এক যুবক। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত নারী ও তাঁর সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার বেলা বেলা ১২টায় নগরীর ভুবনমোহন পার্কে সিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. মাহফুজ আহমেদ রিফাত জানান, তিনি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর বড় বটতলা এলাকার মৃত সামান উল্লাহ খানের মেয়ে বাদশাহ জাদী রেমীর একমাত্র কন্যা মেহেরুন হাসান রোশনিকে প্রাইভেট পড়াতেন। এই সুবাদে রেমীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়।
রিফাতের অভিযোগ, রেমী অতি গোপনে তাদের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি সংগ্রহ করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করেন এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হওয়ায় রেমী নিজে বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় রিফাতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের হয়রানি ও সামাজিক মানসম্মান বাঁচাতে রিফাত নিজের চেয়ে ১৯ বছরের বড় রেমীকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। এই ঘটনার জেরে তাঁকে নিজ পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হতে হয়।
বিয়ের পরের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে রিফাত বলেন, “সবকিছু মেনে নিয়ে সংসার শুরু করলেও রেমী আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। তিনি অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে (পরকীয়া) জড়ান, যা মূলত তার একটি ‘ব্যবসা’। বাধা দিলে তিনি আমাকে ও আমার পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার এবং জেলে পাঠানোর হুমকি দিতেন। স্ত্রী ও তাঁর মেয়ের অনৈতিক কর্মকা- মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) আমি রেমীকে আইনিভাবে তালাক দিই।
তালাক দেওয়ার পর রেমী ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন দাবি করে রিফাত বলেন, “গত ৮ ফেব্রুয়ারি ডাকযোগে তালাকের নোটিশ পেয়ে একই দিনে রেমী নিজের মেয়ের শ্লীলতাহানি বা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। অথচ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে ঘটনাটি ১২ জানুয়ারির। মূলত তালাকের প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই বানোয়াট মামলা করেন। এই মামলায় আমি প্রায় ২২ দিন কারাভোগ করার পর গত ৬ এপ্রিল জামিনে মুক্ত হই।”
সংবাদ সম্মেলনে রিফাত আরও অভিযোগ করেন, জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকেই রেমী ও তাঁর কথিত প্রেমিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিফাত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে নানা ধরনের মানহানিকর অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় রিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে রিফাত গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই ‘বিয়ের ফাঁদ’ পাতা নারী, তাঁর মেয়ে, কথিত প্রেমিক এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। এসময় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
