**নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬**
**রাজশাহী:** উত্তরের সীমান্তঘেঁষা বিভাগীয় শহর রাজশাহীর নীল আকাশে আজ রঙের মেলা বসেছিল। উপলক্ষ্য—ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব। তবে এবারের এই উৎসব কেবল বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে রূপ নিয়েছিল এক অনন্য মিলনমেলায়। কোনো রাজনৈতিক বিভেদ বা মতাদর্শের দেয়াল আজ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি; বরং দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ একত্রে লাটাই হাতে মেতে উঠেছিলেন প্রাণের উৎসবে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজশাহীর ঐতিহাসিক পদ্মা পাড় ও নগরীর বিভিন্ন খোলা মাঠে ভিড় জমাতে শুরু করেন নানা বয়সী মানুষ। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে প্রধান আকর্ষণ ছিল রাজনৈতিক সম্প্রীতি। দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা একে অপরের লাটাই ধরে ঘুড়ি ওড়াতে সাহায্য করছেন।
উৎসবে আসা অংশগ্রহণকারীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নানা অস্থিরতা ও রাজনৈতিক রেষারেষি থাকলেও আজকের এই ঘুড়ি উৎসব প্রমাণ করেছে যে, সাধারণ মানুষের চাওয়া সবসময়ই শান্তি ও ঐক্য। ঘুড়ির সুতোর টানে যেন আজ সবার মন এক সুতোয় বাঁধা পড়েছিল।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী এই সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি আমরা চেয়েছিলাম একটি অসাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সংঘাতমুক্ত পরিবেশের বার্তা দিতে। আজ দল-মত নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের সেই লক্ষ্যকে সফল করেছে।”
উৎসবে বাহারি নামের ও রঙের ঘুড়ির দেখা মেলে। পটেটো, চোখদার, পানাদার, বগা আর ড্রাগন ঘুড়িতে ছেয়ে যায় আকাশ। ঘুড়ি কাটাকাটির চিরাচরিত ‘ভো-কাট্টা’ চিৎকারে মুখরিত হয়ে ওঠে পদ্মার পাড়। ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও শৈশবে ফিরে গিয়ে এই আনন্দে সামিল হন।
বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে বলেন, রাজশাহীর আকাশ আজ সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ যেন বছরের প্রতিটি দিন মানুষের মাঝে অটুট থাকে, সেই প্রত্যাশা করেন তারা।
সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। রাজশাহীর এই ঘুড়ি উৎসব কেবল একটি ইভেন্ট নয়, বরং বর্তমান সময়ে জাতীয় ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন সাধারণ নাগরিকরা।
