লিয়াকত হোসেন
রাজশাহী মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে একটি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নগরের চন্দ্রিমা থানার ছোটবনগ্রাম মৌজায় এই জমির মালিক মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী শামিমা ইয়াসমিন শিখার স্বামী মো. হাসানুজ্জামান।
আরজুমা খাতুন নামের এক নারীর কাছ থেকে এই আড়াই কাঠা জমি ২০১৯ সালে কিনেছেন হাসানুজ্জামান। এই জমিটি আরজুমান ২০১০ সালে কিনেছিলেন। এরপর জমির খারিজ হয়েছে। হাসানুজ্জামান নিয়মিত খাজনাও দিচ্ছেন।
এখন কৃষকদল নেতা শরফুজ্জামান শামীম দাবি করছেন, জমিটি কিনতে তিনি বাদশা নামের এক ব্যক্তিকে বায়না দিয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) তিনি ওই জমির ওপর একটি সাইনবোর্ড লাগান। এতে লেখা ছিল, ‘বায়না সূত্রে এই জমির মালিক শরফুজ্জামান শামীম।’
ছোটবনগ্রাম মৌজায় এই জমির জে.এল নম্বর-১৩৩, আরএস দাগ নম্বর-১৬৮। রোববার জমিতে সাইনবোর্ড দেওয়ার পর সোমবার (১২ এপ্রিল) সকাল থেকে শরফুজ্জামান শামীমের লোকজন ওই জমির ওপর সীমানা প্রাচীর তুলতে শুরু করেন। খবর পেয়ে হাসানুজ্জামানের স্ত্রী অ্যাডভোকেট শামিমা ইয়াসমিন শিখার স্বামী মো. হাসানুজ্জামান পুলিশের জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে চন্দ্রিমা থানা পুলিশের একটি দল গিয়ে প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে। এরপর এ বিষয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করেন হাসানুজ্জামান।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে জমিটি কিনে তিনি ভোগদখল করছেন। সোমবার সকালে শামীম কৃষকদল নেতা পরিচয়ে মাস্তান ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে গিয়ে জমির ওপর প্রাচীর দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ কাজ বন্ধ করলে শামীম তাদের নানারকম হুমকি দিয়ে চলে যান।
দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকায় প্রায় ২০টি প্লট আছে। এরমধ্যে হাসানুজ্জামানের প্লটটি ১১ নম্বর। সেটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এই আড়াই কাঠা জমির মধ্যে প্রায় দুই কাঠা দখল করে প্রাচীরের ভেতর প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পুলিশ আসার আগেই প্রায় এক ফুট উচ্চতার প্রাচীরটি দিয়েছেন শামীমের লোকজন।
তারা জানান, প্লটের ভেতর প্রাচীর তোলার খবর পেয়ে অ্যাডভোকেট শামিমা ইয়াসমিন শিখা ও তার স্বামী হাসানুজ্জামান সেখানে যান। এ সময় কৃষকদল নেতা শামীমের সঙ্গে তাদের বাগবিত-া হয়। একপর্যায়ে ‘আওয়ামী লীগের জমি দখল করলে কী হবে’ বলে শামীম চলে যান।
হাসানুজ্জামানের স্ত্রী অ্যাডভোকেট শামিমা ইয়াসমিন শিখা বলেন, ‘এখানে সবার জমি প্লট করা আছে। শরফুজ্জামান শামীমের কোনো জমি নেই। তিনি আমার প্লটের পাশে থাকা রাস্তাটিকে দখল করছেন। এর পাশাপাশি রাস্তা থেকে তিনি আমার প্লটের ভেতরে এসে প্রাচীর তুলছেন। এভাবে আড়াই কাঠার মধ্যে দুই কাঠা জমিই তিনি দখলের চেষ্টা করছেন।’
জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন কৃষকদল নেতা শরফুজ্জামান শামীম। তিনি বলেন, ‘সেখানে শূন্য দশমিক ০৩৩০ একর জমি আছে বাদশা নামের এক ব্যক্তির। আমি জমিটি কিনতে বায়না করেছি।’ হাসানুজ্জামান খাজনা দিলেও ওই জমি কিনতে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে বায়না করার ব্যাপারে জানতে চাইলে শামীম বলেন, ‘যার কাছে বায়না করেছি, তারও খাজনা-খারিজ চালু আছে।’
আওয়ামী লীগের জমি দখল করলে কী হবে, এমন কথা বলেননি দাবি করে কৃষকদলের এই নেতা বলেন, ‘আমরা আমাদের জমিতে প্রাচীর দিচ্ছিলাম। তারা বাধা দিয়েছেন। পুলিশ এসেছিল। পুলিশ দুপক্ষের কাগজ দেখে ব্যবস্থা নেবে। এখানে অন্য কোনো কথার তো দরকার নেই।’
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। নগরের বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমি অভিযোগকারীকে আদালতে মামলা করারও পরামর্শ দিয়েছি। তিনি মামলা করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়ে যায়।
