স্টাফ রিপোর্টার
সম্প্রতি দেশে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ এবং এর ফলে বেশ কিছু অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ ঠান্ডার মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হলেও সঠিক সময়ে শনাক্ত না হওয়ায় এবং পরবর্তী জটিলতাগুলো গুরুত্ব না দেয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল সচেতনতা এবং সময়মতো টিকাদানই পারে শিশুদের এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে।
শুরুতে চেনার উপায়: ‘কপ্লিক স্পটস’ হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতোই-জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি এবং চোখ লাল হওয়া। তবে চিকিৎসকগণ একটি বিশেষ লক্ষণের কথা বলছেন যা দিয়ে হাম নিশ্চিতভাবে চেনা সম্ভব। শিশুর মুখের ভেতর গালের দিকে ভাতের দানার মতো ছোট ছোট সাদা দাগ বা ‘কড়ঢ়ষরশ’ং ঝঢ়ড়ঃং’ দেখা দিলে ধরে নিতে হবে এটি হাম। এর ১-২ দিন পর কান ও মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা ছড়িয়ে পড়ে।
কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?
হাম নিজে থেকে ৭-১০ দিনে সেরে গেলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে শিশুকে বাড়িতে না রেখে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে:
* নিউমোনিয়ার লক্ষণ: র্যাশ আসার পরও জ্বর না কমা বা শ্বাসকষ্ট হওয়া।
* মস্তিষ্কের প্রদাহ: শিশু অস্বাভাবিক ঘুমানো, ডাকলে সাড়া না দেয়া বা খিঁচুনি হওয়া।
* চোখ ও কানের সমস্যা: চোখ অতিরিক্ত লাল হওয়া বা কানে প্রচ- ব্যথা ও পুঁজ পড়া।
* পানিশূন্যতা: শিশু পানি না খাওয়া এবং প্রস্রাব কমে যাওয়া।
ইমিউন অ্যামনেশিয়া: এক দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি হাম কেবল একটি সাময়িক রোগ নয়; এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্মৃতি মুছে দেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ওসসঁহব অসহবংরধ’ বলা হয়। এর ফলে হাম সেরে যাওয়ার পরও পরবর্তী ২-৩ বছর শিশু অন্যান্য সাধারণ রোগের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, হাম অন্যান্য রোগের জন্য শরীরের দরজা খুলে দেয়।
প্রতিরোধই একমাত্র পথ
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। ভিটামিন-এ, প্যারাসিটামল এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। তবে গগজ টিকা গ্রহণ করলে ৯৭% পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
* প্রথম ডোজ: ৯ মাস বয়সে।
* দ্বিতীয় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে।
সরকারি টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা বিনামূল্যে দেয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, টিকায় অটিজম হয়-এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিটি অভিভাবকের উচিত শিশুর টিকার ডোজ পূর্ণ করা নিশ্চিত করা।
হামের প্রকোপ ও শিশু
