আলো ডেস্ক: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় অন্তত ৪০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করছে বিআইডব্লিউটিসি। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ৪০ জনের মতো লাশ পানির নিচে বলে ধারণা করছিল ফায়ার সার্ভিস। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত একজন নারীর লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৪০ জনের মতো লাশ পানির নিচে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুজন ডুবুরি, দুজন সহকারী ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। মূলত একটি ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। গতকাল বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটিতে ৪০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যায়। বাকিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মনির হোসেন আরও জানান, চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেলো। অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। এ সময় বাসে নারী-শিশু সহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিল।
