স্টাফ রিপোর্টার
মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের রাজশাহী স্টাফ রিপোর্টার গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মোছা. জান্নাতুর ফেরদৌস এ অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে গোলাম রাব্বানীর আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গোলাম রাব্বানীর দাখিল করা আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মাসিক আয় মাত্র ২৮ হাজার ৫৭০ টাকা। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৫ মে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা এলাকার সাদিপুর মৌজায় তিনি ৫ দশমিক ১৫ একর অকৃষি জমি ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার ৩০০ টাকায় (দলিল নং-২২৭৩) ক্রয় করেন। একই দিনে আরও ৩ দশমিক ১৫ একর অকৃষি জমি ১ কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকায় (দলিল নং-২২৭৫) ক্রয় করেন। দুটি দলিলে মোট ২ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার ৭০০ টাকার জমি কেনা হলেও তার আয়কর নথিতে এ অর্থের কোনো বৈধ উৎস দেখানো হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে গোলাম রাব্বানী বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলসহ নানা কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া একটি কথিত অনলাইন পোর্টালকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ওই প্ল্যাটফর্মে নারী কর্মীদের ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর গোলাম রাব্বানী নিজের পরিচয় গোপন করে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন মামলার আসামিদের নাম এজাহার থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বোয়ালিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন আসামির নাম বাদ দেওয়ার তদবিরের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক মেয়রের বিপুল অর্থ গোলাম রাব্বানীর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে বলে সন্দেহ রয়েছে। সম্প্রতি তার ও তার পরিবারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ও হাউজিং সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যতার মাধ্যমে মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় একাধিক প্লট নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, গত ১২ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে একই ধরনের একটি অভিযোগ দুদকে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দাখিল করেছিলেন।
তিনি বলেন, “যেকোনো ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। তবে অভিযোগ দায়ের করা মানেই কেউ দোষী-এমনটি নয়। আমি এ বিষয়ে কোনো উদ্বেগ দেখছি না। আমি জানি আমি কে এবং কী করেছি।”
অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
রাজশাহীতে মাছরাঙ্গা
