স্টাফ রিপোর্টার
অভিযোগ উঠেছে, থ্রি লিজেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির পরিচালক নিলুফা আক্তার কুমকুম বহুতল ভবনের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমি হাতিয়ে নেওয়ার এক সুচতুর কৌশল চালিয়ে আসছেন। সেই কৌশলের ফাঁদে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান তার পৈতৃক জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পান।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ভবনটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিশ্রুত ফ্ল্যাট কিংবা বাণিজ্যিক স্পেস কিছুই পাননি তিনি। বরং নিজের বৈধ জমির দাবি তুলতে গেলে উল্টো বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মুস্তাফিজ রহমান ভুক্তভোগীর দাবি, দ্রুত এই প্রতারণা চক্রের মূলহোতা নিলুফা আক্তার কুমকুমকে গ্রেফতার করে জমির প্রকৃত মালিকের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার। বিস্তারিত নওগাঁয় আবাসন ব্যবসার আড়ালে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে থ্রি লিজেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির পরিচালক নিলুফা আক্তার কুমকুম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, বহুতল ভবন নির্মাণের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে সাধারণ জমির মালিকদের ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
এই প্রতারণার শিকার হয়ে বর্তমানে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নওগাঁর স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান।
ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার পৈতৃক জমিতে ১০ তলা আধুনিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেন কুমকুম। সেই প্রস্তাবে বিশ্বাস করে তিনি আম মোক্তারনামা দলিলের মাধ্যমে জমি তাদের হাতে তুলে দেন।
চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন নির্মাণ করে তাকে তার প্রাপ্য ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই ভবন নির্মাণের কাজ কার্যত বন্ধ করে দেয় কুমকুম।
দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে সেই ভবনটি প্রায় পরিত্যক্ত কাঠামোয় পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, জীবনের সব সঞ্চয় ও পৈতৃক সম্পত্তি এই প্রকল্পে দেওয়ার পর এখন তিনি প্রায় নিঃস্ব। জমির মালিকানা হারিয়ে যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি প্রতিশ্রুত ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক স্পেসও পাননি তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ন্যায্য পাওনা চাইতে গেলে কুমকুম ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণার নানা অভিযোগের মধ্যেও থেমে নেই এই চক্রের সদস্যরা। রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার পাশেই তাদের আরো একটি বহুতল ভবনের কাজ চলমান রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তারা বলছেন এই কুমকুমের প্রতারণার বিষয়ে পূর্বেও একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক ভাবে তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কুমকুম তার কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ন্যায়বিচারের আশায় নওগাঁ আদালতে নিলুফা আক্তার কুমকুমের প্রতারণার শিকার হয়ে নিজের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান ইতোমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের করেছেন।
সচেতন নাগরিক সমাজ দ্রুত এই প্রতারণা চক্রের মূলহোতা নিলুফা আক্তার কুমকুমকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ মানুষ এমন প্রতারণার শিকার না হয়। লিজেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির পরিচালক নিলুফা আক্তার কুমকুমের ভয়াবহ প্রতারণার পেছনে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য শক্তির সব তথ্য আমরাই তুলে ধরবো।
