আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২টি হত্যাকাÐ ঘটছে। তবে বেসরকারি হিসাবে এর পরিমাণ আরো বেশি। ওসব হত্যাকাÐের সাথে মাদক জড়িত। বর্তমানে স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয় পড়–য়া এক শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবাইলে পর্নোতে আসক্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে বড় অংশই ইয়াবায় আসক্ত। একপর্যায়ে তারা নৃশংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারা দেশে প্রতিদিনই নৃশংস হত্যাকাÐ ঘটছে। আর ওই ধরনের নৃশংসতার সঙ্গে মাদকাসক্তরা জড়িত। মাদকাসক্ত ব্যক্তি কাকে হত্যা করছে ওই চেতনাবোধ থাকে না। দেশে সংঘটিত নানা ধরনের হত্যাকাÐ ও অপরাধের বীভৎসতা বিশ্লেষণে লক্ষণীয় যে, প্রতিহিংসাপরায়ণ ও মাদকাসক্ত অবস্থায় অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফলে অপরাধীদের অপরাধ করার সময় কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। বরং ব্যক্তিকে হত্যা করে টুকরা টুকরা করে তা নিয়ে উল্লাসও করছে। মাদক প্রতিরোধে রাষ্ট্রের জিরো টলারেন্স ঘোষণা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বরং মাদকের সরগরম উপস্থিতি দৃশ্যমান। মাদককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে এক বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মাদক নির্মূল করা ছাড়া দেশকে অপরাধের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।
সূত্র জানায়, দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। মাদকের এই ভয়াবহ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে দেশ পরিচালনাসহ সব পেশায় যোগ্য ও মেধাবী লোকের তীব্র সংকট দেখা দেবে। সর্বনাশা মাদককে রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। তাহলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগও জরুরি। বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে সর্বাধিক তরুণদের সংখ্যা। তাছাড়া প্রায় সব পেশার লোকজন কমবেশি মাদকাসক্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। বিশ^বিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলগামী ছাত্রদের মধ্যে ইয়াবা আসক্তি বাড়ছে। ফলে বেড়েছে চলেছে অপরাধও। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে মাদক পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ইয়াবা। প্রতিটি গ্রামে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বেচাকেনা। মোটর সাইকেলযোগে একদল তরুণ গ্রামের পর গ্রাম ইয়াবা সরবরাহ করছে। তাতে গ্রামাঞ্চলেও বাড়ছে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এর সত্যতা স্বীকার করেছে। তাছাড়া মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের একটা অংশও। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও একটি অংশও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দেশের সীমান্ত দিয়ে প্রচুর ইয়াবা আসছে। তরুণ-কিশোররাই ওই মাদকে বেশি আসক্ত হচ্ছে। আর ইয়াবা অপরাধ ও নৃশংসতা বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ। প্রতিদিন যে পরিমাণ মাদক আসছে উদ্ধার হচ্ছে খুবই কম। কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।
এদিকে এ প্রসঙ্গে র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান জানান, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে গত এক সপ্তাহে ৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়, খুন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের তালিকা অনুযায়ী গ্রেফতারে দেশব্যাপী র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাতউল্লা জানান, সিআইডি যে কোনো ধরনের নৃশংস হত্যাকাÐসহ অপরাধে জড়িতদের আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে দ্রæত গ্রেফতার করে ফেলে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িতদের দ্রæত গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। সিআইডিতে আরো আধুনিক টেকনোলজি যুক্ত হচ্ছে। ওই টেকনোলজিকে ফাঁকি দিয়ে কোথাও অপরাধী লুকিয়ে থাকার সুযোগ পাবে না।
