স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী নগরীর কোর্টস্টেশন মোল্লা বাঁশের আড্ডা এলাকায় পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ার পর প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেছে। পুকুরটি ভরাট করার সময় রাজশাহী বোয়ালিয়া ভুমি অফিস থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হলেও ভরাট হয়ে যাওয়ার পর ভুমি অফিস থেকে নাটকীয় অভিযান চালানো হয়েছে। দিনভর পুলিশ, আনসার সদস্যদের নিয়ে ভরাট হওয়া ওই খনন করার নাটক করছে বোয়ালিয়া থানা ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভুমি)। আর এ নিয়ে প্রশাসনের প্রতি আঙ্গুল তুলছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা বলছেন, বোয়ালিয়া থানা ভুমি অফিসের লোকজন সময় মত কাজ না করে এখন লোক দেখানো কাজ করতে এসেছেন। ভুমি অফিসের এমন নাটকের কারণে এখন ক্ষতির মুখে পড়ছে পুকুরের মালিক। জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবরের পর থেকে নগরীর মোল্লা বাঁশের আড্ডা এলাকায় একটি পুকুর ভরাট শুরু হয়। প্রথম দিকে অনেকেই এই পুকুরটি ভরাট না করার জন্য ভুমি অফিসে অভিযোগ দেন। কিন্তু স্থানীয়দের এই অভিযোগ আমলে নেননি ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভুমি)। পুকুরটি পুরোটাই ভরাট হয়ে যাওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বোয়ালিয়া থানা ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার আরিফ হোসেন পুলিশ, আনসার সদস্য নিয়ে ওই পুকুরে হাজির হন। তিনি ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুরে গিয়ে দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি ভেকু মেশিন দিয়ে বালু তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া শুরু করেন। এতেই বিপত্তিবাধে স্থানীয়দের মধ্যে। শুরু হয় এসিল্যান্ডকে নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনা। সহকারী কমিশনারের এমন কর্মকান্ড দেখে হতভম্ব স্থানীয় মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, এসিল্যান্ডকে দেয়া টাকার পরিমান কম হওয়ার কারণে তিনি পুকুর ভরাট হওয়ার পর নাটক সাজাতে এসেছেন। অনেকেই বলছেন, এসিল্যান্ডের এই লোক দেখানো অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন পুকুরের মালিক। কারণ তারা তো ভরাট করেই ফেলেছেন। এখন কি এসিল্যান্ড চাইলেই পুকুরটি পুনখনন করতে পারবেন? প্রশাসন তো যখন সময় ছিল তখন কোনো প্রতিকার করেনি। তাহলে এই লোক দেখানো অভিযানেরই বা দরকার কি। আবার অনেকেই বলছেন, যেহুত পুকুর ভরাট হয়ে গেছে, সেহুত এটি আর খনন করা সম্ভব না, তাই প্রশাসনের উচিৎ অযথা পুকুর মালিককে ক্ষতিগ্রস্ত না করা। জানা গেছে, পুকুরটির মালিক আরিফ, আসরাফ মতিউর রহমানসহ তাদের অংশিদারদের। তারা ঠিকাদার দিয়ে পুকুরটি ভরাট করে নিয়েছেন। এব্যাপারে বোয়ালিয়া থানা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আরিফ হোসেন জানান, উর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে আমরা পুকুরে অভিযান চালিয়েছি। প্রশ্ন করা হয় পুকুর তো ভরাট হয়েছে, সেখানে অভিযান চালিয়ে লাভ কি, আপনরা আগে অভিযান চালাননি কেন ? এমন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, আমরা চাইলেই অভিযান চালাতে পারি না। কিছু নিয়ম আছে আমাদের। অভিযানে গেলে লোকবল প্রয়োজন হয়, সব মিলে বিষয়টি দেরি হয়ে গেছে। এখন পুকুর পুনখনন করতে যে টাকা লাগবে সেটি কে দিবে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
