চারটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র অর্ধশতাধিক প্রার্থী রাকসু নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশঙ্কার পরই ছাত্রদল নেতা এই কথা বললেন।
‘শিক্ষক লাঞ্ছিতের’ ঘটনায় ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, শিক্ষার্থীদের হল ও মেস ছেড়ে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতির মধ্যে রাকসু নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চারটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র অর্ধশতাধিক প্রার্থীর রাকসু নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশঙ্কার পরই সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন পেছানোর দাবি জানালেন ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নুর উদ্দিন আবীর।
তিনি বলেন, “আমাদের নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি আমাদের ভাবনার বিষয়। ভোটার ছাড়া নির্বাচন কোনোভাবেই হতে পারে না। শতভাগ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিতে দরকার হলে ভোট দুর্গা পূজার পরে হোক। আমরা এমনটা চাচ্ছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পরিবহন মার্কেটে চত্বরে’ ‘পোষ্য কোটা’ ইস্যুতে আবির বলেন, “আমরা বারবার জানিয়েছি ৫ অগাস্টের পরের বাংলাদেশে আর কোনোভাবেই কোটার জায়গা হবে না। সেটা যে নামেই আসুক।”
‘নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে’
ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীল পরিবেশ, ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ফলে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ এবং পূজার ছুটি সামনে রেখে শিক্ষার্থীরা হল ও মেস ছেড়ে যাচ্ছে; এই অবস্থায় তুলনামূলক কম ভোটারের উপস্থিতিতে রাকসু নির্বাচন হলে সেটি ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রহসনের’ হবে বলে বার্তা দিয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক প্রার্থী।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’, ‘রাকসু ফর র্যাডিকাল চেঞ্জ’, ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’, ‘ইউনাইটেড ফর রাইটস’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
এ ছাড়া এদিন চারটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে দ্রুত ‘পোষ্য কোটা’ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রেখে রাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীল পরিবেশ, কমপ্লিট শাটডাউন, পূজার ছুটি সব কিছু বিবেচনা করে রাকসু নির্বাচন কমিশনারকে পরবর্তী পদক্ষেপ অতি দ্রুত নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্থিতিশীল করে রাকসু নির্বাচন হতে দিতে হবে।
রাকসু নির্বাচনের ইতিহাসে একমাত্র নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন বলেন, “শিক্ষার্থীরা অলরেডি বাসায় যাওয়া শুরু করেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় পূজা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছুটির পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ আমাদের সব প্যানেলের, সকল স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে এবং দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাকসু নির্বাচনকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করবে।”
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ ক্যাম্পাস ফাঁকা
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালের প্রজ্ঞাপন জারির পর একে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী পদক্ষেপে তিন ধরে ক্যাম্পাসে যে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার থেকে লাগাতার আন্দোলনের একপর্যায়ে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে শিক্ষক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। প্রবল আন্দোলনের মুখে ওই দিন গভীর রাতে পোষ্য কোটা স্থগিতের ঘোষণা দেয় প্রশাসন। রোববার সিন্ডিকেটও তা বহাল থাকে। তারপরই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ।
এই অবস্থার মধ্যে রাকসু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিলেও; যথাসময়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসুদ।
সোমবার সকালে ‘শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত’ করার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ মানববন্ধন করেন। ‘প্যারিস রোডের’ এ মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ইউট্যাব রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শনিবার সন্ত্রাসীরা শিক্ষকদের যেভাবে লাঞ্ছিত করেছে, আমরা যদি এর সুষ্ঠু বিচার না করতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে আমাদেরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।”
রাকসু নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচার চলার কথা রয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নয়টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। গণনা শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
