oppo_2
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর দুর্গাপুরে সড়ক সংস্কার কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ৫ দিনের মাথায় সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। সদ্য নির্মিত উপজেলার তিওড়কুড়ী থেকে পাঁচবাড়ি হয়ে দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটারের বেশি এ পাকা সড়কটির এই দুরবস্থা। সরেজমিনে গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণের পাঁচদিন যেতেই হাত দিয়েই তুলে ফেলা যাচ্ছে পিচের ঢালাই। সড়কটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেন তারা। নিম্নমানের বিটুমিন, ইট ও বালি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। সড়কটি পুনরায় নির্মাণের দাবি জানান তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার তিওড়কুড়ি হতে পাঁচুবাড়ী হয়ে দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৪.২৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের কাজটি পান চিটাগাং এলাকার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ওয়াসিম হোসেন। গত ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি সেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি আবারো সময় বাড়িয়ে নেন। যা ছিলো চলতি সেপ্টম্বর মাস পর্যন্ত। তবে পরবর্তী সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি করেছেন কাজে অনিয়ম। ২ কোটি ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯৬ টাকা ব্যায়ে নির্মাণকৃত এ সড়ক ৫ দিনের মাথায় উঠে যাচ্ছে পিচ ঢালাই।
স্থানীয়রা জানান, গত (৫ সেপ্টেম্বর) সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। সড়ক নির্মাণে ইট, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের। ব্যবহার করা হয়েছে কালি ও পোড়া মবিল। সড়ক পরিষ্কার না করেই অপরিষ্কার অবস্থায় পিচ ঢালায়ের কারণে সেগুলো উঠে যাচ্ছে। হাত দিয়েই তুলে ফেলা যাচ্ছে পিচ ঢালাই। ৫ দিন পার হয়ে গেলেও কার্পেটিং জমাট বাঁধেনি। কার্পেটিংয়ে হাত দিয়ে উঠানো যাচ্ছে। এমনকি পা দিয়ে ঘষা দিলে ওঠে যাচ্ছে । সরেজমিনে গিয়ে সড়কটির এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। এসময় স্থানীয়রা পুনরায় এ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
পথচারি প্রফেসর ইয়াসিন আলী বলেন,‘ রাস্তায় ঠিকমত পিচ দেয়নি। এই রাস্তা ১বছর টিকবে না। এখন যদি বৃষ্টি হয় এই রাস্তা টোটালি নষ্ট হয়ে যাবে।’
ভ্যান চালক আবু বক্কর বলেন, ‘সরকার সড়ক নির্মাণের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। আর ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার অফিস ভাগ বাটোয়ারা করে কাজের মান খারাপ করেছেন। সড়ক পরিস্কার করার পরে কোনো প্রকার পিচ দেয়নি। পিচ না দিয়েই সড়কে পিচ ঢালাই করেছে। যার কারণে কয়েকদিন না যেতেই সব উঠে যাচ্ছে। এমন সড়ক করার চেয়ে না করায় ভালো। আগেই এর চেয়ে ভালো ছিলো।’
সড়কের পাশে এক প্রতিবেশি আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, ‘পা দিয়ে ঘষা দিলেই পাথর উঠে যায়। এমন সড়ক এর আগে কখনো দেখিনি। পিচ ঢালায়ের সময় ভালো করে রোলার দিয়ে ডলাও দেয়নি। ঠিকাদাররা তাদের ইচ্ছেমত কাজ করে চলে গেছে।’
দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার বলেল, ‘ঠিকাদার খুব তড়ি ঘড়ি করে কাজ শেষে করে চলে গেছে। এ কাজ চলার সময় উপজেলা থেকে একজন কেউ দেখিনি। ফলে ঠিকাদার তাদের ইচ্ছেমত দায়সারা কাজ করে চলে গেছে। সাধারণ ভ্যান গাড়ি যাওয়ার সময় চাকা দেবে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে পিচের ঢালাই উঠে যাচ্ছে। এ সময় কয়েকজন রাস্তায় হাত দিলে পিচের ঢালায় উঠতে থাকে। এমন রাস্তা জীবনেও দেখিনি।’
স্থানীয় এক ঠিকাদার জানান, ‘পাকা সড়কের পিচ হাত বা পা দিয়ে সহজেই উঠে আসার কারণ হলো, রাস্তা তৈরির সময় পিচ বা অ্যাস্ফাল্ট ঠিকমতো ব্যবহার করা হয়নি বা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে। যার কারণে এর স্থায়িত্ব কমে গিয়ে সহজেই ঢালাই খসে পড়ে। এছাড়াও সঠিক অনুপাতে পাথর, বালি এবং বিটুমিন মেশানো না হলে রাস্তার উপরের স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খসে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।’
জানতে চাইলে ইউনুস এন্ড ব্রাদার্সের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অসিম হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মাশুক-ই মোহাম্মাদ বলেন, নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মান করা হয়নি। ল্যাবে পরীক্ষা করে সড়ক নির্মাণে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার নজর এসেছে, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাস্তাটি কোন ত্রুটি ধরা পড়লে পুনঃনির্মাণ করা হবে।
