আলো ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) অনেক বছর পর একটা নির্বাচন হচ্ছে, অবশ্যই এটা জাতীয় নির্বাচনের একটা মডেল হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আজকের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি, সারাদেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকসু নির্বাচন, জাকসু নির্বাচন, রোহিঙ্গা ও সাগরে ইলিশ মাছ এসব নিয়েও আলোচনা করেছি।
বিশেষ করে মাদক নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকাল (গত সোমবার) উপাচার্যের সঙ্গে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছেন। আমরাও আশা করছি একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মিডিয়াতেও দেখেছি, নির্বাচন ভালোভাবেই হচ্ছে। ডাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের মডেল হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যারা ডাকসুতে ভোট দিচ্ছে তারা সবাই শিক্ষিত সমাজের। আর জাতীয় নির্বাচন একেবারেই ভিন্ন বিষয়। দুটি মিলিয়ে ফেললে হবে।
তবে এটা নির্বাচনের মডেল হিসেবে কাজ করে। তিনি আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচনে যারা প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসাররাও তারা সবাই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। জাতীয় পর্যায়ে কিন্তু এ রকম হবে না, এটা হচ্ছে একটা মডেল। অনেক বছর পর একটা নির্বাচন হচ্ছে, অবশ্যই এটা একটা মডেল। আমরা আশা করবো, সবার দোয়ায় নির্বাচনটা যেন ভালোভাবে হয়। ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং ভোট দিচ্ছেন।
সকালে মিডিয়ায় ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সংবাদ দেখে মনটা ভালো হয়ে গেছে।জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কী নির্দেশনা দিলেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মেইনলি আলোচনা করেছি যে আমাদের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে। কীভাবে প্রস্তুতিটা নেব, আর আমরা যে প্রশিক্ষণ গাইড লাইন করেছি সেটা যেন সবাই মেনে চলে। নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী তাদের প্রশিক্ষণ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। নির্বাচনে টাকা-পয়সা নিয়ে একটু ইয়ে ছিল, সেটা নিয়ে সন্ধ্যায় সচিবের সঙ্গে আবার বসবো।
সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করা যায়। বর্তমানে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগে কোনো ঘটনা ঘটলে সেটার খবর পেতে অনেক সময় লাগত। এখন প্রযুক্তির উন্নতির কারণে সঙ্গে সঙ্গে খবর পাওয়া যায়। এটা ভালো হলেও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। তবে আমার মনে হয়, নির্বাচন করতে কোনো অসুবিধা হবে না।
আল্লাহ চাইলে প্রধান উপদেষ্টা যেমন বলেছেন, শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইলিশ নিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে এবারও ইলিশের প্রজনন কমেছে। ভবিষ্যৎ হয়তো বাড়বে। এটা নিয়ে কীভাবে কী করা যায়, আমাদের যারা ট্রলার চালায় তারা এমন এক নতুন প্রযুক্তি আনছে সেটাতে পোনা মাছসহ সবকিছু চলে আসে। এটা যাতে বন্ধ করা যায় সেসব বিষয়ে আলোচনা করেছি।
আরাকান আর্মি মাদক বিক্রি করেই বেঁচে আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে দেশে প্রচুর মাদক আসছে। তবে ধরাও পড়ছে বেশি। এখন বিভিন্ন নতুন নতুন ধরনের মাদক আসছে। হোটেলগুলোতে এগুলো চলছে। আমরা এখনো এগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, আরাকান আর্মি বেঁচেই আছেই মাদক বিক্রি করে। তাদের প্রধান আয়ই আসে মাদক থেকে। আরাকান আর্মি মিয়ানমারের বর্ডারটাই দখল করে নিয়েছে। তবে আরাকানরা ইদানিং কৃষিতে ঝুঁকছে। সেটা হলে মাদকের ফ্লো কিছুটা কমবে। প্রতিদিন লাখ লাখ পিস ইয়াবা ধরা পড়ছে।
