তরিকুল ইসলামের খুঁটির জোর কোথায়?
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী পরিবার পরিকল্পনা জেলা অফিসের অফিস সহকারীর কাম কম্পিউটার অপারেটর তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়মের বিস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমন কোন অনিয়ম নেই যে তিনি করেন না। অফিস সহকারী পদে চাকুরী করেও রাজশাহী শহরে গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি।
আছেন একই চেয়ারে ১৪/১৫ বছর যাবত। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনার পাঁচজন ফার্মাসিস্ট।
লিখিত অভিযোগে যানা গেছে এসিআর প্রতি সাক্ষরের জন্য কয়েক দফা মেডিকেল অফিসার এম,সি এইচ এফ পি তানোর, রাজশাহী জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে জমা দেন।
সিআর জমা দেওয়ার সাথে সাথে রাজশাহী জেলা অফিসের অফিস সহকারীর তরিকুল ইসলাম মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন এই টাকা তার এক সহকর্মী কে আদায় করে দিতে বলেন যিনি পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হিসেবে তানোর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা অফিসে কর্মরত ছিলেন। তথ্য অনুসন্ধান করে যানা যায় ঐ সহকারী অত্যান্ত সৎ সাহসী, বিনয়ী তিনি উৎকোচক দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এর পর তিনি তাকে বদলি ওদেখে নেওয়ার হুমকি দেন। বলেন পরিচালক ও উপপরিচাল আমার কথা শোনবেন এবং বিশ্বাস করবেন।তাই তো ১৪/১৫বছর আমাকে কেউ বদলি করতে পারে নি বরং আমার কথায় সবার বদলি হয়। সবার প্রশ্ন এক জন অফিস সহকারী তরিকুলের খুঁটির যোর কোথায়? তরিকুলের অনৈতিক আবদার মিটাতে না পারার কারনে ঐ সহকারী কে অন্য উপজেলায় বদলি হতে হয় এটা সবার ধারনা।
এমন কাজ যে তরিকুল ইসলাম স্যারদের কে ভুল বুজিয়ে করিয়েছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। সৎ এক জন অফিস সহকারী কে বদলি করিয়ে তিনি তার জাত চেনালেন। যাতে তার অনৈতিক কর্ম কান্ড সবায় ভয়ে মেনে নেয়। এখানেই শেষ নয় এর পরে তিনি ভুক্তভোগী ফার্মাসিস্টদের ফোন দিয়ে ঐ সহকারীর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ দিতে বলেন। নতুবা তাদের এসিআরএ সাক্ষর হবে না।
ফার্মাসিস্টরা অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি তাদের সাদা কাগজে সই করে দিতে বলেন। যা তারা লিখিত আকারে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। ফার্মাসিস্টরা অভিযোগে উল্লেখ করেন এর পরে আমরা উপপরিচালক (অব:) নাসিমা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করি। কারন এ এসিআর তার সময়ে প্রতিসাক্ষর করার কথা যা তরিকুল এত দিন আটকিয়ে রেখেছিলেন। নাসিমা আক্তার ৩/৪ বছর হলো অবসরে চলে গেছেন।
তাও মানবিক কারনে তিনি তাদের এসিআরএ প্রতিসাক্ষর দিতে চেয়েছিলেন। সময় নিয়ে নাসিমা আক্তারের বাসায় গেলে তরিকুল ইসলাম যানতে পেরে সাথে সাথে নাসিমা আক্তার উপপরিচালক (অব:) কে মিথ্যা তথ্য ও বানোয়াট কথা বলে ফোন করে তাকে সাক্ষর দিতে নিষেধ করেন।
যা ফার্মাসিস্টদের অভিযোগ থেকে পাওয়া যায়। বলেন আমার ক্ষমতা কতটুকু তার একটু নমুনা দেখালাম তোমাদের। তথ্য নিয়ে জানা যায় জেলা অফিসে কর্মরত থাকার কারনে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সকলেই তার কাছে আসতে বাধ্য।
তার কথা না শোনলে উপরস্থ কর্ম কর্তাদের ভুল বুজিয়ে বদলি ও হয়রানি করেন। ১৪/১৫ বছর একেই চেয়ারে থাকার কারনে ঘুষ দুর্নীতি কে তিনি শিল্পের মর্যাদায় নিয়ে গেছেন। জেলার সকল উপজের পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সকলেই তাকে পারসেন্টিস তরিকুল বলে যানে।
কেউ কেউ তাকে ঘুষ দুর্নীতির মহাগুরু বলে ও মন্তব্য করে থাকেন। সবায় বলে তরিকুলের কাছে অথৈই বড় তা হোক বৈধ কিংবা অবৈধ। এছারা তরিকুল রাজশাহী জেলা অফিসে এক শক্তি শালী সিন্ডেকেট গড়ে তুলেছেন।
বিগত দিনে তিনি আওয়ামীলিগের একজন সাহসী কর্মি বলে ধারাভাস্য দিতেন। সকলের প্রশ্ন নতুন বাংলাদেশে এখনো তরিকুলের মতো লোকেরা কি ভাবে কর্মরত আছে। তাদের মতো লোক থাকলে ৫ আগষ্টের যে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে যে ছাত্র জনতা জীবন দিয়েছে তাদের আত্মায় কষ্ট পাবে।
ইতিমধ্যেই তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তানোর অফিসের মাধ্যমে উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে যার স্মারক নম্বর উপ/পপ/তান/রাজ/২০২৫/২৩৩। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক অনেকেই বলেন ৫ জন ফার্মাসিস্ট যে সাহস দেখিয়েছেন আমাদের পরিবার পরিকল্পনা জেলা ও উপজেলা অফিসের সকলের দায়িত্ব তাদের পাশে দাড়ানোর।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও অন্যত্র শাস্তি মূলক বদলি করার যোর দাবী জানাচ্ছি। তারা আরও বলেন পরিচালক ও উপ পরিচালক অত্যান্ত ভালো মনের মানুষ, আমাদের দু:খ কষ্ট সব সময় বুঝেন।
এবার তারা তরিকুলের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিবেন। তা না হলে আমরা মানববন্ধন সহ কঠোর কর্ম সূচী হাতে নিব। যা স্বাস্থ্য সেবায় মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হবে। এব্যাপারে তরিকুলের মুঠোফোনে ফোন দিলে তার মোবাইলটা বন্ধ পাওয়া যায়।
