আলো ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির মাঝপথেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ।
সরকারি ছুটি শেষ হতে এখনো দুই দিন বাকি থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশ থেকেই মানুষ কর্মস্থলে ফিরেছেন সড়ক, রেল, নৌ ও সেতুপথে। যানজট, টিকিট সংকট বা বড় কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি-বরং এবার ঈদ-পরবর্তী যাত্রায় স্বস্তির ছাপই স্পষ্ট।
ঈদের ষষ্ঠ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রেন এসে পৌঁছাচ্ছে সময়মতো, যাত্রীরাও নির্বিঘেœ নেমে আসছেন। অতিরিক্ত ভিড় না থাকলেও ঈদের আনন্দ শেষে ফিরতি যাত্রায় ক্লান্তি চোখে পড়েছে যাত্রীদের মুখে। গরমের কষ্ট থাকলেও ভ্রমণে বড় কোনো সমস্যার কথা জানাননি কেউ। যাত্রী সাজেদা চৌধুরী বলেন, “এবারের যাত্রাটা ছিল অনেকটাই আরামদায়ক।
টিকিট কাটা থেকে শুরু করে ট্রেনে ওঠা-সব কিছুতেই সমস্যা কম ছিল। ভালোভাবে পৌঁছেছি।” রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে এখনও ট্রেন নির্বিঘেœই চলাচল করছে। তবে শুক্র ও শনিবার যাত্রী চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাঁদপুর লঞ্চঘাটে সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। প্রতি ঘণ্টায় একটি করে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে, তবে কোনো হয়রানি বা ভোগান্তির অভিযোগ নেই।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য জানান, “যাত্রীরা খুব ভালোভাবেই যাতায়াত করতে পারছেন। বাড়তি চাপের জন্য ৬টি অতিরিক্ত লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যদিও এখনও প্রয়োজন হয়নি।” যাত্রী রতন হোসাইন বলেন, “পরিবার নিয়ে এসেছিলাম চাঁদপুরে। ফেরার পথে লঞ্চযাত্রা একেবারে আরামদায়ক ছিল।” চট্টগ্রামের মিরসরাই, ঠাকুরদীঘি, বড়তাকিয়া, বারইয়ারহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে যাত্রীর চাপ দেখা গেছে।
তবে কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজট হয়নি। চট্টগ্রামের কর্মজীবী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “এবার সড়কে যানজট অনেকটাই কম। পরিবার নিয়ে আরামেই ফিরছি।” অন্যদিকে, কিছু এলাকায় গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয়েছে বলে জানান যাত্রী আরিফুল হক। মিরসরাই ইকোনমিক জোনের এক প্রকৌশলী মাশরাফি আলম বলেন, “সড়ক অনেকটাই ফাঁকা ছিল। রাতে বাসে উঠেছি, সকালে ফিরবো। এবার ঈদের যাত্রা অনেকটাই ঝামেলামুক্ত ছিল।”
দৌলতদিয়া ঘাটে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো যানজট দেখা যায়নি। ফেরি ও লঞ্চ ঘাটে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক থাকায় বিলম্ব ছাড়া পারাপার সম্ভব হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে মোট ২,৭৫২টি যানবাহন পার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৮টি বাস, ১,১৮৩টি ছোট গাড়ি এবং ৯০১টি মোটরসাইকেল। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “চাপ কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু কোথাও কোনো যানজট বা ভোগান্তি নেই।”
যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেখা গেছে ঢাকামুখী মানুষের স্বস্তির যাত্রা। যানজট ছাড়াই ফিরছেন তারা। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর ওপর দিয়ে পার হয়েছে ৩১,৯৯৮টি যানবাহন। এর মধ্যে ১৮,৭১২টি যানবাহন ঢাকামুখী। যাত্রী আব্দুর রহিম বলেন, “পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দ শেষ করে নির্বিঘ্নে ঢাকায় ফিরছি। যানজট ছিল না বলেই কষ্ট হয়নি।” অন্যদিকে, পোশাকশ্রমিক বেল্লাল হোসেন জানান, “মা-বাবাকে ছেড়ে কাজে ফিরতে হচ্ছে, এইটুকু কষ্ট ছাড়া সবই ভালো ছিল।” যাত্রাবিরতিহীন এই সময়ে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
