শাহীনুর হাসান
পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নারী নির্যাতন গুম, খুন এ যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে,আর কত নারী ধর্ষিত হবে? গুম, খুন, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণ একটি অন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কথিত আধুনিক সভ্যতার গগনচুম্বি ছোঁয়া ও নারীর ক্ষমতায়নের বাঁধভাঙ্গা জোয়ারেও চরম ঘৃর্ণিত, অসভ্য, নোংরা, কুরুচিপূর্ণ ঘটনা মহামারির মত সর্বত ছড়িয়ে পড়েছে। গণধর্ষণের যে হিংস্র থাবা এবং হত্যার যে বিবর্ণ চিত্র তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ছেলের বয়সী ধর্ষণদেরকে শতবার ‘আল্লাহর দোহায়‘ দিয়েও মুক্তি মেলেনা অসহায় মহিলাদের। তিন বছরের শিশু থেকে সত্তোর্দ্ধ বৃদ্ধা, প্রতিবদ্ধী পাগলী পর্যন্ত ধর্ষক হিংস্র হায়েনাদের লালসার সিকার হয়েই চলেছে। পিতার নিকট কন্যা, চাচার নিকট ভাতিজি এবং শশুরের নিকট পুত্রবধুও রক্ষা পায়নি। স্বামীর সাথে থেকেও স্ত্রী হিংস্র ধর্ষকদের থেকে নিরাপদ নয়। আজ কোথাও নারীর নিরাপত্তা নেই। সর্বত্র আতঙ্ক।
ধর্ষণের একেকটি চিত্র এতই লোমহর্ষক যে, তা শুনে বা পত্রিকায় পড়ে শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। এ সমস্ত মানবরূপী জানোয়ারদেরকে কালবিলম্ব না করে সরাসরি বিচারের মাধ্যমে হত্যার নির্দেশ দেওয়া উচিত বলে সূধী সমাজ ও সাধারণ মানুষের আজ জোরারো দাবি। একদিকে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের জোয়ার, অন্যদিকে অশ্লীলতা ও নগ্নতার ঢেউ। যেমন নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ফেসবুক, ইউটিউব, টিভি বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, ম্যাগাজিন, মুভি, মিউজিক, নোংরা সাহিত্য, সবকিছুই চরম যৌন উত্তেজক।
নারীর নগ্ন পোশাক, বেহায়ার মত বেপরওয়া চলাফেরা, গার্লফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ডের মত জঘন্য যৌন সংস্কৃতি, পর্নোগ্রাফি, ব্লু ফিল্মসহ বিভিন্ন মিডিয়া ধর্ষণকে যেন উস্কে দিচ্ছে। এর ফলে নারী-পুরুষ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় জোরপূর্বক যৌনকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে।
সুযোগ পেলেই নৈতিকতা হারিয়ে মাদকসন্ত্রাসে মাতাল হয়ে যৌনক্ষুধায় রাক্ষসের রূপ ধারণ করে ঝাপিয়ে পড়ছে। আইন বা বিচার-ব্যবস্থা দিয়ে তাদের লাগামহীন গতিকে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অভিভাবকরা সর্বদা আতঙ্কে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
সর্বোচ্চ সম্মানের জাতি আজ মানবরূপী হিংস্র পশুদের নগ্ন থাবায় ভীত সন্ত্রস্ত। ধর্ষিতা শিশু, কিশোরী, তরুণী, যুবতী ও বৃদ্ধার করুণ আর্তনাতে আজ আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, প্রভাবশালীদের কালো থাবা ও আইনের নানা ফাঁকফোকরের কারণে ন্যায়বিচার নীরবে-নিভৃতে গুমরে মরছে। এহেন নাজুক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য আজ লক্ষ-কোটি জনতা ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছে।
অজস্র কন্ঠে আজ ধ্বনিত হচ্ছে ধর্ষকের চুড়ান্ত শাস্তি মৃত্যুদ- করা হোক। প্রশ্ন হলো, ধর্ষণ, ব্যভিচার ও যৌন নির্যাতন এত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ কি? তা প্রতিকারের উপায় কি? রাষ্ট্রসহ সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকেই প্রথমেই এগুলো বৃদ্ধির কারণ উদঘাটন করতে হবে এবং তা প্রতিরোধের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যেমন- ● অভিভাবকদের সন্তানের সুষ্ঠ দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা ● দ্বীনি শিক্ষার অভাব ● অবাধ যৌনাচার ● নারীদের অমার্জিত ও যৌন উত্তেজক পোশাক ● পর্নোগ্রাফির আসক্তি ● অপসংস্কৃতি তথা অশ্লীন নাচ-গান, যৌন উত্তেজক বই-ম্যাগাজিন, অশ্লীন নাটক-সিনেমার কুপ্রভাব। উল্লেখিত বিষয় গুলোর উপর যদি রাষ্ট্র তথা সরকার নজর দিতেন তবে এসমস্থ ঘৃর্ণিত ঘটনা হয়ত রোধ করা সম্ভব হতো।
