আলো ডেস্ক:
নাটোরের গুরুদাসপুরে চিরকুট লিখে ১৪টি বৈদ্যুতিক শিল্প মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার দিবাগত রাতে পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাণিজ্যিক এলাকা থেকে মিটারগুলো চুরি হয়। দেখা যায়, চাঁচকৈড় বাজারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আল মামুন, আলাল উদ্দিন, শামীম হোসেন, জামাল আলী, ভাদু সরকার, মাহাতাব সরকার, আতিক হোসেন, তাজ সরকার, মোস্তফা, ময়েন উদ্দিন, মহাসিন ও আমিরুল সরদারসহ ১৪ জনের শিল্প মিটার চুরি হয়েছে।
বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো থেকে মিটার খুলে নেওয়ার পর পাশে চিরকুটে চোরের দেওয়া মোবাইল নম্বর ঝুলানো। সেখানে লেখা চুরি যাওয়া মিটার ফেরত পেতে কল করুন। ওই নম্বরে কল দিলে মিটারপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা বিকাশে চাওয়া হয়। বিকাশ করলে নির্দিষ্ট স্থানে মিটার রেখে যাচ্ছে চোর চক্র। ভুক্তভোগী জামাল হোসেন বলেন, চোরের বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার করে টাকা দেওয়ার পর মামুন সরকারের দুটি, আলামিন, মালেক সরকার ও হাফিজুল ইসলামের মিটার চোরের দেওয়া নির্ধারিত স্থান থেকে ফেরত পেয়েছেন।
কিন্তু আমার মিটারের টাকা বিকাশ করলেও দেওয়া হয়নি। আমার মিটারের সঙ্গে আরও দুজনের মিটার লুকানো আছে। আরেক ভুক্তভোগী মহাতাব সরকার জানান, এর আগেও চুরি যাওয়া মিটার ফিরে পেতে থানায় অভিযোগ দেই। কিন্তু কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে চোরের সঙ্গে সমঝোতা করে মিটার ফিরে পেতে চেষ্টা করছি। এদিকে বিদ্যুৎ অফিসের মাধ্যমে নতুন মিটার সংযোগ পেতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মমিনুর রহমান বিশ্বাস বলেন, গ্রাহকদের মিটারে খাঁচা লাগানোর নির্দেশনা দিলেও কেউ মানছেন না। ইতোপূর্বেও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। মিটার চুরি হওয়ার পর গ্রাহকের টনক নড়ে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বিপ্লব কুমার সরকার দুঃখ প্রকাশ করে থানায় অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহবান জানান। গুরুদাসপুর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, মিটার চুরির খবর শুনেছি। কিন্তু অভিযোগ পাইনি। তারপরেও চোর ধরতে ও মিটার উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।
