আলো ডেস্ক: মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, অক্টোবরে প্রাক নির্বাচন পরিস্থিতি মূল্যায়ন টিম পাঠাবে তার দেশ। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। পিটার হাস বলেন, বৈঠকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নতুন দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছি। আগামী অক্টোবরে প্রাক মূল্যায়ন পর্যবেক্ষক টিম পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ক্ষেত্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ হচ্ছে শুধুমাত্র অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন যেখানে বাংলাদেশের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাক পর্যবেক্ষক টিম কতদিন থাকবে সে বিষয়টি আমি এখনো জানি না। ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগে ভিয়েনা কনভেনশনের লঙ্ঘন হয়নি বলে মন্তব্য করেন পিটার হাস। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৩ দেশ হিরো আলমকে নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে তা ভিয়েনা কনভেশন লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পিটার ডি হাস বলেন, অন্য দেশ যখন আমাদের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক বিষয় উত্থাপন করে তখন আমরা তাদের কথা শুনি। আমরা দেখি তাদের কাছ থেকে কী শিখতে পারি। আমরা মনে করি না, এটি লঙ্ঘন হয়েছে। এর আগে গত ২৬ জুলাই হিরো আলমকে নিয়ে বিবৃতির জেরে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১১টি দেশ এবং ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে অসন্তোষ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিবৃতিতে মৌলিক ত্রুটি তুলে ধরেছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেছি। আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।
আমরা এটাকে সমন বলছি না… আমরা এর আগে জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তাকেও ডেকেছিলাম। তাদের বিবৃতির আগেই পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে তারা সেটি বলেননি। বিবৃতিতে অনেক ত্রুটি রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এ বিবৃতিকে অপ্রয়োজনীয় বলেও অভিহিত করে বলেন, আমরা আশা করি, তারা এটি উপলব্ধি করবে এবং এই ধরনের অক‚টনৈতিক আচরণ থেকে বিরত থাকবে। কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন, এটি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়নি।
তারা আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করার জন্য করেছেন। তারা মনে করেছেন যে, এটি আমাদের সাথে কন্টিনিউয়াস এঙ্গেজমেন্ট আছে, এটাই ধারাবাহিকতার অংশ। এর জবাবে তাদের ভিয়েনা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৪১ মনে করিয়ে দিয়েছি তাদের অবস্থানকারী দেশের আইন মানতে হবে ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা চলবে না- যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, তাদের যোগাযোগের প্রথম জায়গা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হওয়া উচিত ও আমাদের কর্মকর্তারা সর্বদা তাদের প্রয়োজনে সাড়া দিতে প্রস্তুত।
আমরা মিডিয়ার সঙ্গে তাদের যোগাযোগের প্রশংসা করি, কিন্তু ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, যোগাযোগের প্রথম জায়গা হওয়া উচিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ১৯ জুলাই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা একটি যৌথ বিবৃতি দেন। এতে তারা, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী আশরাফুল আলমের ওপর ১৭ জুলাই হামলার নিন্দা জানান। একইদিনে আরেক বিবৃতিতে নিন্দা জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল।
