আলো ডেস্ক: বাজারে খোলা গতকাল মঙ্গলবার থেকে সয়াবিন তেলের বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেটি বাস্তবায়ন করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে এখনও খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, তারা গুদামজাত তেল বিক্রি করছেন। ফুরিয়ে গেলে আর বিক্রি করবেন না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নিকেতন বাজারে সরেজমিনে ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে কথা হয় ব্রাদার্স স্টোরের সত্ত্বাধিকারী স্বপনের সঙ্গে। বিক্রি বন্ধে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেন খোলা তেল বিক্রি করছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমরা আগে থেকে জানতাম না। আর জানলেও তো আসলে তাৎক্ষণিক কিছু করার নেই। আমাদের মাল কিনে রাখতে হয়।
সেই মাল তো ফেলে দিতে পারি না। শেষ হলে এরপর কিনতেও পারব না, বিক্রিও করব না। একই মতামত ওই বাজারের আরেক মুদি দোকানি শাহীনের। তিনি বলেন, খোলা তেল বিক্রির বন্ধের সিদ্ধান্ত আজকেই জানলাম। এখন দোকানে যা আছে, বিক্রি শেষে আর বিক্রি করব না। তবে, বাজারে খোলা তেল বিক্রি বন্ধ হওয়াকে অসুবিধা মনে করছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। তারা বলছেন, চলমান অস্থিরতার বাজারে এই সিদ্ধান্ত তাদের আরও চাপে ফেলবে।
বাজারে খোলা তেল কিনছিলেন জেসমিন আক্তার। তিনি তেজগাঁও এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তিনি বলেন, এমনিতে জিনিসপত্রের যে দাম! খোলা তেল তো আর বড়লোকরা কিনেন না। আমাদের মতো গরিবরাই কিনেন। তুলনামূলক কম দামে পেতাম। এখন থেকে বড়োলোকি দেখাতে হবে এই আরকি। এটা আমাদের মতো কম আয়ের মানুষের জীবনযাপনে প্রভাব ফেলবে।
প্রসঙ্গত, বাজারে গতকাল মঙ্গলবার থেকে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি বন্ধ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে মাঠে থাকবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গত ২৬ জুলাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আইন অনুসারে ১ আগস্ট থেকে প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করতে হবে, খোলা তেল বিক্রি করা যাবে না। আমরা খোলা তেল বিক্রি বন্ধে মাঠে নামব।
তিনি বলেন, গত জানুয়ারি থেকে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে তা পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগস্টের শুরু থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সম্মত হয়। বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, এ বিষয়ে আমরা সকালে জুমে একটা মিটিং করেছি। সারাদেশে আমাদের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করছেন। বিকেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
