আলো ডেস্ক: ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তারা গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিলে কয়েকশো আইনজীবী অংশ নেন।
তারা মুক্তিকামী জনতার ওপর পুলিশের হামলা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদ জানান এবং একই সঙ্গে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। গত শনিবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অনেককে আটক করে পুলিশ। এরই প্রতিবাদে গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে হাইকোর্ট মাজার গেট দিয়ে মূল রাস্তায় উঠে। পরে মিছিলটি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেটের সামনে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, কদম ফোয়ারা, মাজার গেট হয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।
মিছিলে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা সরকারের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের এডহক কমিটির আহ্বায়ক সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ, সদস্য সচিব শাহ আহম্মেদ বাদল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট বার ইউনিটের সভাপতি আবদুল জব্বার ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল, আইনজীবী আবেদ রাজা, মোহাম্মদ আলী, মো. আক্তারুজ্জামান, মোরশেদ আল মামুন লিটন, শফিউল আলম মাহমুদ, কামরুজ্জামান মামুন, সগীর হোসেন লিওন, মো. কামাল হোসেন, মাহবুবুর রহমান খান, মাহমুদ হাসান, শহিদুল ইসলাম সপু, শামীমা সুলতানা দিপ্তী, সৈয়দ মো. তাজরুল হোসেন, রেজাউল করীম রেজা, মো. জহিরুল ইসলাম সুমন, মো. মাসুদুল আলম দোহা, ফাতেমা আক্তার, মো. মাকসুদ উল্লাহ, আনিসুর রহমান রায়হান, একেএম খলিলুল্লাহ কাশেম ও মু. কাইয়ুমসহ কয়েকশো আইনজীবী।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গোটা জাতি আজ এক হয়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। গণগ্রেফতার করে লাভ হবে না। বিএনপির ৪২ লাখ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হতে রাজি আছে। এ সময় তিনি সরকার পতনের আন্দোলনে আইনজীবী ও দেশবাসীকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূতভাবে নানা কথা বলছেন। যা রাজনীতির জন্য শুভ নয়। ইট মারলে কিন্তু পাটকেল খেতে হয়। এ সরকারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবী সমাজ ঘরে ফিরবে না।
