ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
রাজশাহী মহানগরী ও ইহার আশপাশের পানির চাহিদা মেটাতে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন রাজশাহী পানি সরবরাহ, পয়ঃনিস্কাশন কর্তপক্ষ ( রাজশাহী ওয়াসা)। এই মহানগরীতে প্রতিদিন পানি ঘাটতি থাকে ১ কোটি ৭৭ লাখ লিটার পানি। এই ঘাটতি পানির চাহিদা মেটাতেই এই মেগা প্রকল্প হাতে নেন রাজশাহী ওয়াসা।
এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন পদ্মা নদী থেকে ২০ কোটি লিটার পানি পরিশোধন করে বিশুদ্ধ করা সম্ভব হবে। পানযোগ্য এই পানি রাজশাহী মহানগরী ও আশপাশের এলাকা, পৌর এলাকাগুলিতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠরা আমাদের প্রতিবেদককে জানান, রাজশাহী পদ্মা নদীর পানি পরিশোধন করতে ” ট্রিটমেণ্ট প্লাণ্ট” বসানো হবে এই রাজশাহী মহানগরী থেকে ২৫ কিঃমিঃ দুরে গোদাগাড়ী উপজেলা সদরের ‘ সারেংপুর’ নামক জায়গায়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান।
রাজশাহী ওয়াসা স‚ত্র থেকে আমাদের প্রতিবেদক জানতে পারেন যে, এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা। গণচীনের ‘ হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ’ কোম্পানী লিমিটেড এই কাজটি বাস্তবায়ন করবে। পদ্মা নদীতে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেণ্ট প্লাণ্ট স্হাপনে গণচীনের এই কোম্পানীর সঙ্গে ২০২১ সালের ২১ ই মার্চ চুক্তি করে রাজশাহী ওয়াসা।
এই ট্রিটমেণ্ট প্লাণ্টের মাধ্যমেই আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলের সব জায়গায় পানি সরবরাহ শতভাগ নিশ্চিত করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাজশাহী ওয়াসা। রাজশাহী ওয়াসা স‚ত্র থেকে জানা যায় যে, এই প্রকল্পটির জন্য বর্তমান সরকার দিবে ১ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা। আড়াই থেকে তিন শতাংশ সুদে ‘ হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ ‘ কোম্পানী লিমিটেড ২ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা ব্যয় করবে এই মেগা প্রকল্পটিতে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা ৪ বৎসর।
গোদাগাড়ী উপজেলার সারেংপুর নামক পদ্মা নদীর যে জায়গায় এই ট্রিটমেণ্ট প্লাণ্ট স্হাপন করা হবে সেখানে পাশ্ববর্তী দেশ ‘ ভারত’ থেকে ‘গঙ্গা’ নদী বাংলাদেশে ঢুকে ‘ পদ্মা ‘ নামকরণ হয়েছে। এখান থেকে পদ্মার শাখা নদী হিসাবে বেরিয়ে গেছে ‘ মহানন্দা’ নদী। এই ২ নদীর মোহনায় রাজশাহী ওয়াসার এই ট্রিটমেণ্ট প্লাণ্ট স্হাপিত হবে। সারা বৎসর এখানে অন্তত ৩০ ফুট গভীর পানি থাকবে।
এই প্রকল্পটি গ্রহণের আগে স্হানটির সারা বৎসরের পানির গভীরতা নিয়ে ৩০ বৎসরের পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং(আইডব্লিউএম) ।
