আলো ডেস্ক: রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে জামিন না দেওয়াসহ মামলার সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশন। গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে এ দাবি জানান সংগঠন দুটির নেতারা। সমাবেশে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, ‘২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে সরকারি হিসাবে ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক প্রাণ হারান।
আড়াই হাজার শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আহত হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সহ¯্রাধিক শ্রমিক। তাদের মধ্যে কমপক্ষে এক হাজার শ্রমিক পঙ্গুত্ব বরণ করে বেঁচে আছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শ্রমিকদের দুর্ভোগ, দুর্দশা ও মানবেতর জীবনের চিত্র সবার আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ভবন মালিক সোহেল রানা ও পাঁচটি গার্মেন্টস মালিকের বিরুদ্ধে সরকার বিভিন্ন আইনে তিনটি মামলা করে, যা গত ১০ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি।
তাদের মধ্যে সোহেল রানা ছাড়া মামলার বাকি সব আসামি জামিনে আছেন। কিছুদিন আগে সোহেল রানার জামিন মঞ্জুর হলে বাংলাদেশের মানুষ এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে সোহেল রানা মুক্তি না পেলেও আজ ৮ মে তার জামিন বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশ থেকে সোহেল রানার জামিন না মঞ্জুরের জোর দাবি জানাই।’ বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ মামলার সব আসামির সর্ব্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।
রানার প্লাজা আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের সুব্যবস্থা করতে হবে।’ সংগঠন দুটির উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ মামলার সব আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে; ৮ মে শুনানিতে সোহেল রানার জামিন না মঞ্জুর করা এবং রানা প্লাজার আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের সন্তানের লেখাপড়ার সুব্যবস্থা করতে হবে; নূন্যতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করতে হবে; শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত বিমার আওতায় আনতে হবে; শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা এবং বিভিন্ন এলাকার ৪০টি ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ শ্রমিকরা।
