রাজশাহীর আলোঃ- স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় জমে উঠেছে ক্যারাম বোর্ড খেলার অন্তরালে জমজমাট জুয়ার আসর। এইসব জুয়া খেলার কারনে নষ্ট হচেছ এলাকার শান্ত-সুস্থ পরিবেশ। জুয়া খেলার কারনে বিভিন্ন মহল্লায় বেড়ে গেছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধী কর্মকান্ড। এরই ধরাবাহিকতায় নগরীর ১ নং ওয়ার্ড কাশিয়াডাঙ্গা থানা সংলগ্ন সাইরগাছা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মোঃ রুবেল সাইরগাছা মোড়ে তার চায়ের দোকানের ভিতরে জমে তুলেছে জুয়ার আসর।
দিনের বেলায় হালকা পাতলা ভাবে চললেও সন্ধ্যার পর থেকে পুরোপুরি জমে উঠে এই জুয়া আসর। রাত যত গভীর হয় বোর্ডে টাকার অংকও বাড়তে থাকে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় নিছক ক্যারাম বোর্ড খেলা হচ্ছে। কিন্ত এই খেলার আড়ালে চলছে রমরমা জুয়া। শুধু তাই নয় এই খেলার বিরতির মধ্যে চলে নেশার আসর, কেউ ক্যারাম খেলে আর মাঝে মধ্যে তাদের সহযোগি কিছু ব্যাক্তি চা বিড়ি সিগারেট কোক নিয়ে খেলোয়াদের দিচ্ছে সেবা, আবার সিগারেটের মসলা সিগারেট থেকে বের করে মসলার সাথে গাঁজা, হিরোইন এক সাথে সিগারেটের ভিতর মিশিয়ে লোড করে সুখ টানের মধ্যে চলে গাব সটের হিড়িক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানিয় দোকানিরা অভিযোগ করে বলেন, কিছু দিন থেকে লক্ষ্য করা হচ্ছে যে, এ খেলার কারণে এলাকায় চুরি ছিনতাই ব্যপক হারে বেড়ে গেছে। এই খেলা বন্ধ না হলে হয়ত বড় ধারণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগ সুত্রে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই জুয়ার আসর করোনার সময় থেকে এখন পর্যন্ত চলছে। দোকানের বাইরে থেকে বোঝা যায় না যে এখানে জুয়া খেলা হয়, এখানে খেলতে আসা হড়গ্রাম পশ্চিম পাড়া এলাকার মোঃ সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তির সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, এখানে প্রায় ত্রিশ জনের মত লোক খেলাতে অংশ গ্রহণ করে, এই জুয়ার বোর্ড মালিক মোঃ রুবেল।
এখানে ক্যারাম খেলার নিয়ম, যে যতই খেলবে চার জন করে একটি টিম হবে আর বোর্ড মালিকের কাছে প্রতি গেম পিছু চার হাজার টাকা করে জমা দিয়ে খেলা শুরু করতে হয়, যে গেম দিতে পারবে গেম বাজকে চার জনের মধ্যে তিন জনের টাকা সে পাবে, সেই টাকার মধ্যে থেকে বোর্ড মালিক কে চার শত টাকা দিতে হয়। ২০টা ৩০টা করে গেম হয়।
এই ভাবেই গেম প্রতি চারশত হারে বোর্ড মালিক কে টাকা বুঝিয়ে দিতে হয়, সাইর গাছা মসজিদের একাধিক মুশোল্লিগণ বলেন, ক্যারাম বোর্ড খেলার কারণে দোকানের সামনে ফুটপাতের উপর জুয়াড়ীরা মটর সাইকেল ও ব্যাটারি চালিত অটো গাড়ি রেখে ফুটপাতের উপর ভিড় জমায় তাতে মসজিদে যাওয়া আশা অনেক কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাছাড়া পথচারী অনেক মানুষ ফুটপাত দিয়ে চলাকালীন বিভিন্ন রকম সমস্যা হয়। জুয়ার বোর্ড মালিক রুবেল কে নিষধ করলে তিনি উল্টা পাল্টা কথা বার্তা বলা সহ বিভিন্ন রকম ভীতি দেখিয়ে বলেন, এগুলো দেখবে প্রশাসন, প্রশাসন যেদিন বন্ধ করতে বলবে সেই দিন আমি খেলা বন্ধ করব।
এ ব্যপারে কাশিয়াডাংঙ্গা থানার ডিউটিরত গাড়ির অফিসার কে বললেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেই নি।
এই বিষয়ে বোর্ড মালিক রুবেলের সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ শিকার করে বলেন, আমার দোকানে তেমন কাষ্টমার হয় না তাই আমি মাঝে মধ্যে খেলার এন্ট্রি ছাড়ি। এদিকে শিক্ষিত সমাজের একটি সুত্র এখানকার খেলাটি অতি দ্রুত বন্ধে প্রশাসনের সু-হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
