স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য এবং রাজশাহী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী জননেতা মিজানুর রহমান মিনু আগামী ১২ তারিখের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আপনারা সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচন করছি। ভোট দিয়ে ধানের শীষ প্রতীককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন।”
গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর বাটার মোড়ে গণমিছিল পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “এই নির্বাচন শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এটি একটি আধুনিক, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “শহীদ জিয়া মাত্র চার বছরে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন এবং গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করেছিলেন।”
এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন।
মিনু বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন-প্রত্যেক পরিবারের মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড এবং জনগণের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আইটি সেক্টর ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।”
রাজশাহীর উন্নয়নের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আপনাদের সন্তান হিসেবে আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি। আল্লাহ যদি দায়িত্ব দেন, তাহলে ১০০ দিনের মধ্যে রাজশাহীকে সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত করা হবে। ভূমিদস্যু যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই মিলে রাজশাহীকে একটি নিরাপদ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলব।”
সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে সবাই আমাদের জনপ্রিয় নেতা মিনু ভাইকে বিজয়ী করবেন। তিনি এ অঞ্চলের মানুষের আস্থার প্রতীক।”
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন-সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, সহসভাপতি নজরুল হুদা, আসলাম সরকার, আবুল কালাম আজাদ সুইট, জয়নুল আবেদিন শিবলি, অ্যাডভোকেট ওয়ালিউল হক রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী রোকসানা পারভিন টুকটুকি, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সখিনা খাতুনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বাটার মোড় থেকে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মালোপাড়া, সোনাদিঘীর মোড়, মনিচত্বর, সাহেব বাজার, জিরোপয়েন্ট, কুমারপাড়া, আলুপট্টি ও গণকপাড়া প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাটার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে হাজার হাজার নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। ধানের শীষ প্রতীকের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, যা এক পর্যায়ে গণজোয়ারে পরিণত হয়।
