রাজশাহীতে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে যুবদল কর্মী হিটলারের সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার
মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে রাজশাহীতে যুবদল কর্মী শামীম রেজা হিটলার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ)দুপুরে নগরীর বুলনপুরে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত ২০০৩ সাল থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ওয়ালিউল হক রানা ভাইয়ের হাত ধরে যুবদলের রাজনীতি শুরু করি এবং এখন পর্যন্ত রাজশাহী মহানগর যুবদলের একজন নির্যাতিত কর্মী হিসেবে দলের সঙ্গেই আছি।
আমি রাজশাহী সদর দলিল লেখক সমিতির একজন দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত রয়েছি। হাজারো অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে যুবদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দলকে ভালোবেসে যুবদলের সাথেই আছি। নির্যাতন ও নিপীড়নের ভয়ে কখনো দল ত্যাগ করার চিন্তা করেনি।
দলকে ভালোবেসে জেল খেটেছি মার খেয়েছি এবং বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছি তারপরও কিছু কুচক্রী মহল আমার বদনাম করার জন্য বিভিন্ন কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি প্রার্থী হয়ে দলিল লেখক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে ২বার নির্বাচিত হয়েছি। পরবর্তীতে আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তৎকালীন কমিটির সভাপতি মোঃ মহিদুল হক ও মলার গং আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে আমাকে দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হতে দেয়নি।
বলেছে প্রার্থী হওয়া যাবেনা শুধু ভোট প্রদান করতে পারবে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতার দাপটে মহিদুল গং পরবর্তীতে আমাকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থীও হতে দেয়নি। আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় আমার উপর অমানবিক নির্যাতন।
তারপরেও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সহ রাজশাহী বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সাথে লিফলেট বিতরণ করি। মহিদুল গং ও ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা আমাকে তাদের সাথে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এবং আমার অগোচরে আমার বিরুদ্ধে কিছু করেছে কিনা তা আমার জানা নাই। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদিয়ার রহমান ভুটান আমার সাথে চরম অন্যায় করে। ভুটানের ছেলে সাগর ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী, সে আমাকে তার বাবার ইন্ধনে ৫/৬ জন মিলে পেছন থেকে অতর্কিতভাবে হামলা করে। তারা এলোপাথাড়িভাবে হাতুর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আঘাত করে।
তাদের আঘাতে আমার মাথার পেছন সাইড সহ শরীরে বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত যখন করে, আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় ছিল কিন্তু ওই ফুটেজ আমাকে দেয়নি মহিদুল গং। এক পর্যায়ে সাধারণ সদস্যরা ঘটনার বিষয় প্রতিবাদ করলে, তাৎক্ষণিক মহিদুল কৌশলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অফিস বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। এবং সাধারণ সদস্যদের আন্দোলনের মুখে পড়ে বিষয়টি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ করাতে বাধ্য হয় মহিদুল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিদুলকে সভাপতি হিসেবে মামলা করতে বলা হয় আমার পরিবারের পক্ষ থেকে। কিন্তু মহিদুল কৌশলে আমার মাকে দিয়ে একটি সাধারণ মামলা করায় রাজপাড়া থানায় তার পছন্দের দারোগাকে দিয়ে। যেখানে মামলা হওয়ার কথা ছিল হত্যা চেষ্টা, তা না হয়ে মারামারির সাধারণ মামলা হয়, যার কারনে আসামিরা একদিনও হাজতবাস করেনি। ভুটান জোরপূর্বক আমার মাকে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করে।
চিকিৎসা শেষে বাড়ি আসার পরে সন্ধ্যার সময় আমি সহ আমার পরিবারের সকলকে সমিতি অফিসে ডাকে মহিদুল গং। যাওয়ার পর মামলা এজাহার দেখে আমি রাগান্বিত হয়ে বলি, আপনারা বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেন সিসিটিভি ফুটেজ সহ, কিন্তু তারা মামলা করতে অস্বীকৃতি জানাই। তখন আমি রাগান্বিত হয়ে বলি আমি আগামীকাল একাই আমার সুবিচারের দাবিতে দলিল লেখক সমিতিতে আন্দোলন করবো।
তখন মহিদুল হক কৌশল অবলম্বন করে জরুরী সভার ডাক দেয়। সেই সভায় আমি উপস্থিত হলে সভার কার্যক্রম শুরু হয় এবং আমাকে ঘটনার বর্ণনা দিতে বলে, আমি ঘটনার বর্ণনা দিলে সাধারণ সদস্যরা উত্তাল হয়ে ওঠে, এ অবস্থায় সাদিয়ার রহমান ভুটান ও আশিক ইকবাল কাজলকে সাময়িকভাবে সমিতির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর সাবেক মেয়রের আশীর্বাদে তুষ্ট মহিদুল ফোন করে সাবেক মেয়র লিটনকে এবং লাউড স্পিকার দিয়ে হাত মাইকে সকলকে শোনায় যে,এই ঘটনার কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবো আপনারা অবরোধ তুলে নেন।
অপরাধীর সাজা তো দূরের কথা উল্টো শামীম রেজা হিটলারকেই সাব-রেজিস্টারের সাথে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে দেয় এবং সেটা জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত করে মহিদুল নিজে। এরপর বর্ধিত সভা ডেকে লোকজনের মাঝে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাকে ৬ মাসের জন্য সাসপেন্ড করে।
২ মাস পরে জেনারেল মিটিং ডাকা হয় এবং সেই মিটিং এ ভূটান ও কাজলের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় তাদেরকে সমিতিতে নেয় এবং সেই সাথে আমারও সাসপেন্ড উইথড্র করে কৌশলে। আমি কাজল ও ভুটানের বিষয়টা আপত্তি জানালে সেটা সরাসরি নাকোজ করে দেয় মহিদুল। এরপর থেকে আমি মহিদুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করি।
অনুসন্ধানে দেখা যায় মহিদুলের দলিল লেখক সমিতির লাইসেন্সটি জাল এবং অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য আমার কাছে চলে আসে মহিদুলের বিরুদ্ধে। এরপর আমার সহযোদ্ধা যুবদল কর্মী আব্দুস সালামকে হেরোইন মামলা দিয়ে ধরিয়ে দেয় এবং আমাকে পলাতক আসামি দেখায়। পরবর্তীতে এই মামলা থেকে আমি অব্যাহতি পেলেও যুবদল কর্মী আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন কারাবাস করে এবং মামলা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে।
২০২৩ সালে আবার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে মহিদুল ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার রুহুল আমিন টুনু (সাবেক কাউন্সিলর ৪ নং ওয়ার্ড)। তারা চাপ প্রয়োগ করে বলে, আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রমে থাকতে হবে, তা না হলে তোর পরিবারসহ তোকে জেলে যেতে হবে। তোর কোন কর্ম থাকবে না, লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে বলে হুমকি দেয়। তারপরেও আমি রাজি না হলে রুহুল আমিন টুনু কৌশলে তার নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় আমাকে নিয়ে যেত।
এবং সে সময় তার নিজের লিফলেট আমার হাতে দিত বিতরণের জন্য। সেদিন কোনো লিফলেট আমার হাতে দেয়নি। আমি মনে করেছি তার নিজের প্রচারণায় চলছে কিন্তু দেখা যায় সে সাবেক মেয়র লিটনের লিফলেট বিতরণ করছে। লিটনের প্রচারণা দেখে আমি সেখান থেকে সরে যেতে চাইলে রুহুল আমিন টুনু আমাকে বলে লিটন ভাইয়ের পক্ষে তোকে বক্তব্য দিতে হবে। আমি তখন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্থান ত্যাগ করি।
১৯/৬/২০২৩ তারিখে লিটনের নৌকার মিছিলে দলিল লেখক সদস্যদের ডাকা হয়। সেখানে অন্তত ১২০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন কিন্তু আমি যেতে রাজি না হলে সে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। বলে তোর পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হবে, তোর পরিবারের লোকজনদের রাস্তাঘাটে মরে পড়ে থাকতে দেখবি। এ অবস্থায় আমার পরিবারের কথা চিন্তা করে আমি অসহায় হয়ে পড়ি এবং আমাকে মিছিলে যেতে বাধ্য করে, জোরপূর্বক মিছিলের সামনে রাখে, যেন আমি মিছিল থেকে পালাতে না পারি।
তারপর মিছিল শেষে আমি মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মো: রফিকুল ইসলাম রবিকে বিষয়টি অবগত করি। সে আমার উপর চরম রাগান্বিত হয় এবং আমাকে ডেকে পাঠাই। এ অবস্থায় আমি আমার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরি। মো:রফিকুল ইসলাম রবি আমার সব কথা শুনে বিবেচনা করে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে এবং বলে আপনি ষড়যন্ত্রের শিকার বিষয়টা খুবই দুঃখজনক।
