আলো ডেস্ক
সরকারের সঙ্গে না থাকলে আমাদের ক্ষতি হতো বলে মন্তব্য করেছেন নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে, সকাল ১০টায় নজরুল ইসলাম মজুমদারকে আদালতে হাজির করে মো. শামীম হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘ব্যাংকারদের প্রোগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে অভয় দিয়েছেন। তার এ বক্তব্য মিডিয়ায় এসেছে। হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিজের লোক নিয়োগ করেছিল। ব্যাংকারদের মধ্যে নজরুল ইসলাম মজুমদারদের নিয়োগ করা হয়। তারা আর্থিকভাবে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। তারা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল।’
আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যানের অধীনে ৫০ হাজার মানুষ কাজ করে। প্রায় ৫ লখের বেশি মানুষ তার সঙ্গে জড়িত। সরকার যেভাবে চেয়েছে, সেভাবেই তাদের কাজ করতে হয়েছে। এছাড়া আরও একাধিক মামলায় রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী না। শারীরিক অবস্থার কারণে আগেও রিমান্ডে নেওয়া হয়নি। তার রিমান্ড না মঞ্জুর করার আবেদন করছি।
এরপর ফারুকী বলেন, ‘কোর্টে এলে তারা অসুস্থ। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনার সামনে টেবিল ছাপড়ে বক্তব্য দেন। আমাদের সেসব সম্পদ দরকার নেই, যেসব সম্পদ অবৈধভাবে করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি, বৈধভাবে গড়ে ওঠা সম্পদে। আমরা অল্প খাবো, অল্প পরবো। যারা মানুষের রক্ত চুষে খায়, তাদের দরকার নেই। মাত্র মামলা শুরু হয়েছে, এখনি বেসামাল হবেন না। আরও ১ হাজার হত্যা মামলা বাকি আছে।’
এরপর আদালতে অনুমতি নিয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘আমার আপন বড় ভাই কুমিল্লার এমপি সাইফুল ইসলাম হিরুকে গুম করা হয়। এরপর ক্রসফায়ারে মারা হয়। সরকারের সঙ্গে না থাকলে আমাদেরও অনেক ক্ষতি হতো। আমরা ভয়ে সরকারের সঙ্গে ছিলাম।’
অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার হাত ও পা কাপে। আমি অসুস্থ। কয়েকবার অপারেশন হয়েছে।’ এ সময় তিনি হাতে থাকা ডাক্তারি কাগজ দেখান। বলেন, ‘আমাকে যদি জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হয়, তাহলে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রিমান্ডে যাওয়ার মতো আমার অবস্থা নেই।’ এরপর বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
