আলো ডেস্ক:
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর সময়েই তহবিল ছাড় কমিয়ে দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। দেশে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বতী সরকারের প্রথম চার মাসে চীন এবং ভারত কোনো সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ওই সময়ে বেইজিংভিত্তিক এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক কোনো তহবিলের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। যদিও ভারত সামান্য পরিমাণ সহায়তা ছাড় করেছে। কিন্তু পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী ওই অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে একটি পয়সাও ছাড় করেনি।
অথচ জুলাই-অক্টোবর সময়ে ৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং এআইআইবি মাত্র ৬৬ লাখ ডলার ছাড় করেছে। ওই সময়ে চীন কোনো অর্থ প্রদানের হিসাব খোলেনি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ এশিয়ার কয়েকটি বৃহৎ অংশীদারের ধীরে চলো নীতির কারণে কমেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে চীন, ভারত এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) তহবিল প্রদানে রয়েছে ধীরগতি।
তাদের কেউই একটি পয়সারও প্রতিশ্রুতি দেয়নি এবং তাদের মধ্যে একটি দেশ চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) প্রথম চার মাসে অতি সামান্য পরিমাণ তহবিল ছাড় করেছে। তহবিল ছাড়ে অনীহার কারণে ইতোমধ্যে এক ডজনের বেশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব পড়েছে। সূত্র জানায়, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় দাতা জাপান বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
প্রধান দ্বিপক্ষীয় দাতা সংস্থা চীন, ভারত এবং চীনের নেতৃত্বাধীন এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক যখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল তখন প্রধান বহুপক্ষীয় দাতা সংস্থাগুলো বর্তমান সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখছে। চীন ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে, তবে ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকে এখন দৃশ্যমান নয়। সরকারের পক্ষ থেকে চীন, ভারত এবং এআইআইবির কাছ থেকে ২২৪ কোটি ডলার মধ্যম থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণ এবং অনুদান ছাড় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ইআরডি চলতি অর্থবছরে ১০৮২ কোটি ডলারের ঋণ এবং সাহায্য পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
কিন্তু এশিয়ার দাতা এবং ঋণদাতারা ওই চার মাসে কোনো তহবিল নিশ্চিত করেনি। তবে চলতি অর্থবছরের দ্বিতায়ার্ধে (জানুয়ারি-জুন) সময়ে প্রধান উন্নয়ন সহযোগীদের (চীন, ভারত এবং এআইআইবি) কাছ থেকে বড় ধরনের অগ্রগতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, গত চার-পাঁচ মাসে বাংলাদেশ সরকারের জন্য বহুপক্ষীয় ঋণদাতারা (বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় দাতা জাপান) বড় সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৮১ লাখ ডলার, এডিবি ২৬ কোটি ৬১ লাখ, জাপান ২৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার এবং রাশিয়া ১৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ঋণ এবং সহায়তা ছাড় করেছে।
জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশের সব বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী এবং ঋণদাতারা ১২০ কোটি ডলারের মধ্যম থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণ এবং অনুদান ছাড় করেছে। তাছাড়া রেলওয়ে, সড়ক পরিবহন এবং সেতু এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় বরাদ্দ করা কিছু তহবিল পাওয়ার কথা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত, চীন এবং এআইআইবির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে, যাতে তারা বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তায় এগিয়ে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে তার ফলাফলও পাওয়া যাচ্ছে।
