ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
শিক্ষা নগরী রাজশাহী। এই রাজশাহী জেলায় আছেন ৬ জন এমপি। ১ জন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় আছেন। অন্য ৫ জন শুধু এমপি। রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী- তানোর) আসনের এমপি আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি পর পর ৩বার এই আসনের এমপি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি বিশিষ্ঠ রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, জনদরদী নেতা। গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা মোঃ বেলাল উদ্দিন সোহেল।
তিনি এক সময় রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওমর ফারুক চৌধুরীর পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন। আমাদের দেশে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এর ধারাবাহিকতায় ১ম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী, তানোর উপজেলায়। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখান।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী সমর্থন দেন জাহাঙ্গীর আলমকে। ইহাতে ফাটল ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের। অবশেষে বেলাল উদ্দিন সোহেল গত ৮ই মে রোজ বুধবার এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। রাজশাহী-৩ (মোহনপুর- পবা) আসনের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে ৩য় ধাপে আগামী ২৯ মে রোজ বুধবার।
পবা উপজেলায় একাধিক আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। বর্তমান এই আসনের এমপি মোহা, আসাদুজ্জামান আসাদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে মোঃ ফারুক হোসেন ডাবলুকে সমর্থন প্রদান করেন। ইহাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মোঃ সাইফুল বারী ভুলু, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল। মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেও সাইফুল বারী ভুলু মাঠে আছেন।
তার প্রতীক ‘ কাপ- পিরিচ’ শান্ত, ভদ্র, কোলাহলমুক্ত, হানাহানিমুক্ত উপজেলা ‘মোহনপুর’ উপজেলায় একই অবস্থা। এই আসনের এমপি আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, এই উপজেলার সব প্রার্থীরা আমার সমর্থন চান। এবার যেহেতু আমাদের দলীয় কোন প্রতীক নাই, কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড এর নির্দেশ কোন প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ করা যাবে না। তাই আমি কোন প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ করি নাই।
সব প্রার্থীরা আমার কাছে সমান। আর এই জন্য আমি দলীয় নেতা-কর্মীদের চাপে আছি। রাজশাহী-৪ আসন। সমগ্র বাগমারা উপজেলা। এখানেও একই অবস্থা। রাজশাহী-৫ আসনের এলাকা পুঠিয়া, দুর্গাপুর উপজেলা। এখানে ২য় ধাপের নির্বাচন আগামী ২১শে মে রোজ মঙ্গলবার। পুঠিয়া উপজেলার বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হীরা বাচ্চু, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুস সামাদ এই উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী।
তারা ২ জনই এই আসনের এমপি, প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারা এর ঘনিষ্ঠ। এখানে প্রার্থী আছেন আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ আহসানুল হক মাসুদ। এই উপজেলায় তিনি কাকে সমর্থন দিবেন তা নিয়ে যথেষ্ঠ চাপে আছেন তিনি। দুর্গাপুর উপজেলায় একই অবস্থা। এখানেও একাধিক প্রার্থী আছেন। প্রতিমন্ত্রী আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, দলীয় কোন নির্দেশনা না থাকার জন্য, আমি সমর্থন দিতে পারি না।
এখানকার দলীয় নেতা- কর্মীরা বিভক্ত হয়ে প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। রাজশাহী-৬ আসনের এলাকা বাঘা- চারঘাট। এই ২ উপজেলায়ও আছে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। চারঘাট উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফকরুল ইসলাম। উপজেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মামুন।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বিপ্লব। বিপ্লব গ্রুপ পাল্টে সাবেক পররাষ্ঠ্র প্রতিমন্ত্রী, এই আসনের এমপি মোঃ শাহরিয়ার আলম এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফকরুল ইসলাম, মামুন কে নিয়ে এমপি শাহরিয়ার আলম চাপে আছেন। এখানকার স্থানীয় নেতারা ২ ভাগে বিভক্ত। তিনি কাকে সমর্থন দিবেন তা নিয়ে এই উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল বিরাজ করছে।
বাঘা উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ লায়েব উদ্দিন লাভলু। রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ রোকনুজ্জামান রিন্টু। এখানেও স্থানীয় এমপি কাকে সমর্থন দিবেন তা নিয়েও তিনি চাপে আছেন।
